১০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদায় উড়ছে সিঙ্গাপুরের কারখানা উৎপাদন, টানা নয় মাস প্রবৃদ্ধি নামমাত্র পরিচালক হয়ে বিপাকে সিঙ্গাপুরের নারী, চাকরি হারিয়ে এখনও ১৫ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক! নতুন শ্রবণ পরীক্ষা বুথে অপেক্ষার সময় অর্ধেক, দ্রুত সেবা পাচ্ছেন রোগীরা সিঙ্গাপুরে দুই মসজিদের সাবেক চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির প্রমাণ এয়ারএশিয়ার বড় সিদ্ধান্ত: ১ জুলাই থেকে বন্ধ সিঙ্গাপুর-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট, বাড়বে যাত্রার সময় স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে বহু কৌশল বিএনপির নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার পেন্টাগনের নতুন নীতি: যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা

স্টুডিও অধিগ্রহণে রাজ্যের বাধা হলিউডে নতুন অনিশ্চয়তা

আমেরিকার কর্পোরেট ইতিহাসে বড় একত্রীকরণ মানেই শুধু ওয়াশিংটনের অনুমোদন নয়, রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। হলিউডের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় স্টুডিও অধিগ্রহণ ঘিরে সেই বাস্তবতাই আবার সামনে চলে এসেছে।

রাজ্যের হস্তক্ষেপে ভেস্তে যাওয়ার নজির

দুই হাজার বাইশ সালে খাদ্য খাতের দুই জায়ান্ট ক্রোগার ও অ্যালবার্টসনস প্রায় পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের এক চুক্তিতে এগোতে চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন ও কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা দাম বৃদ্ধি ও শ্রমবাজার ক্ষতির আশঙ্কায় রাজ্য আদালতে মামলা ঠুকে দেন। পরে ফেডারেল ট্রেড কমিশনও যুক্ত হয়। একের পর এক মামলায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি ভেস্তে যায়। সেই অভিজ্ঞতা এখন হলিউডের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠছে

ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে ঘিরে নতুন লড়াই

এই মুহূর্তে নেটফ্লিক্স ও প্যারামাউন্ট মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের জন্য। প্যারামাউন্টের প্রধান ডেভিড এলিসন একশ আট বিলিয়ন ডলারের আক্রমণাত্মক প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও ওয়ার্নার বোর্ড ইতিমধ্যেই শেয়ারহোল্ডারদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। তবু এই লড়াই সহজে থামছে না।

ফেডারেল নয়, রাজ্যই বড় ঝুঁকি

দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মন জোগাতে ব্যস্ত। কিন্তু আসল অনিশ্চয়তা তৈরি করছেন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ আইন কর্মকর্তা রব বোন্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অতিরিক্ত একত্রীকরণ অর্থনীতি ও প্রতিযোগিতার জন্য ভালো নয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন অনুমোদন দিলেও ক্যালিফোর্নিয়া চাইলে পুরো চুক্তি আটকে দিতে পারে।

শক্তিশালী হচ্ছে রাজ্যের আইন

আমেরিকায় রাজ্য পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আইন নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকেই একাধিক রাজ্য নিজস্ব আইন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কর্পোরেশনের একত্রীকরণ বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যগুলো আবার সক্রিয় হচ্ছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে আটটি রাজ্য বড় চুক্তির আগে অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব আনে। কলোরাডো ও ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই আইন পাস করেছে।

রাজনীতির সঙ্গে কর্পোরেট লড়াই

এই মামলাগুলো শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। একাধিক অ্যাটর্নি জেনারেল গভর্নর হওয়ার দৌড়ে নেমে বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অবস্থানকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। হলিউডের শ্রমিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, স্টুডিও কমে গেলে কাজের সুযোগও কমে যাবে। তাই তারা সম্ভাব্য এই বিক্রিকে বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।

প্রথম পর্বের শুরু

ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে ঘিরে এই লড়াই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত জিতবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো রাজ্য সরকারগুলো কতটা শক্তভাবে সামনে আসবে। হলিউডের এই গল্প যে দীর্ঘ সিরিজে রূপ নিতে চলেছে, তা এখনই স্পষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

“আমি এ বছরই দেশে ফিরব” – শেখ হাসিনা

স্টুডিও অধিগ্রহণে রাজ্যের বাধা হলিউডে নতুন অনিশ্চয়তা

০৬:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

আমেরিকার কর্পোরেট ইতিহাসে বড় একত্রীকরণ মানেই শুধু ওয়াশিংটনের অনুমোদন নয়, রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। হলিউডের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় স্টুডিও অধিগ্রহণ ঘিরে সেই বাস্তবতাই আবার সামনে চলে এসেছে।

রাজ্যের হস্তক্ষেপে ভেস্তে যাওয়ার নজির

দুই হাজার বাইশ সালে খাদ্য খাতের দুই জায়ান্ট ক্রোগার ও অ্যালবার্টসনস প্রায় পঁচিশ বিলিয়ন ডলারের এক চুক্তিতে এগোতে চেয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন ও কলোরাডোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা দাম বৃদ্ধি ও শ্রমবাজার ক্ষতির আশঙ্কায় রাজ্য আদালতে মামলা ঠুকে দেন। পরে ফেডারেল ট্রেড কমিশনও যুক্ত হয়। একের পর এক মামলায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি ভেস্তে যায়। সেই অভিজ্ঞতা এখন হলিউডের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠছে

ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে ঘিরে নতুন লড়াই

এই মুহূর্তে নেটফ্লিক্স ও প্যারামাউন্ট মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের জন্য। প্যারামাউন্টের প্রধান ডেভিড এলিসন একশ আট বিলিয়ন ডলারের আক্রমণাত্মক প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও ওয়ার্নার বোর্ড ইতিমধ্যেই শেয়ারহোল্ডারদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। তবু এই লড়াই সহজে থামছে না।

ফেডারেল নয়, রাজ্যই বড় ঝুঁকি

দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মন জোগাতে ব্যস্ত। কিন্তু আসল অনিশ্চয়তা তৈরি করছেন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার শীর্ষ আইন কর্মকর্তা রব বোন্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ বাজারে অতিরিক্ত একত্রীকরণ অর্থনীতি ও প্রতিযোগিতার জন্য ভালো নয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন অনুমোদন দিলেও ক্যালিফোর্নিয়া চাইলে পুরো চুক্তি আটকে দিতে পারে।

শক্তিশালী হচ্ছে রাজ্যের আইন

আমেরিকায় রাজ্য পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আইন নতুন কিছু নয়। উনিশ শতকের শেষ দিকেই একাধিক রাজ্য নিজস্ব আইন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় কর্পোরেশনের একত্রীকরণ বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যগুলো আবার সক্রিয় হচ্ছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে আটটি রাজ্য বড় চুক্তির আগে অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব আনে। কলোরাডো ও ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই আইন পাস করেছে।

রাজনীতির সঙ্গে কর্পোরেট লড়াই

এই মামলাগুলো শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে। একাধিক অ্যাটর্নি জেনারেল গভর্নর হওয়ার দৌড়ে নেমে বড় কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে অবস্থানকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। হলিউডের শ্রমিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, স্টুডিও কমে গেলে কাজের সুযোগও কমে যাবে। তাই তারা সম্ভাব্য এই বিক্রিকে বিপর্যয় হিসেবে দেখছে।

প্রথম পর্বের শুরু

ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে ঘিরে এই লড়াই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত জিতবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো রাজ্য সরকারগুলো কতটা শক্তভাবে সামনে আসবে। হলিউডের এই গল্প যে দীর্ঘ সিরিজে রূপ নিতে চলেছে, তা এখনই স্পষ্ট।