০৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
শীতলক্ষ্যায় তিনদিনের পুরোনো মরদেহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের আভাস: আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দোকানে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার এপ্রিলেই সড়কে ঝরল ৪০৪ প্রাণ, বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট দীর্ঘ আড়াই মাস পর এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছাল জাহাজ, স্বস্তি ফিরছে ইআরএলে মমতার ভরাডুবির পর একে একে পদত্যাগ, পশ্চিমবঙ্গে প্রশাসনিক মহলে অস্বস্তি জনতা ব্যাংকের নিলামে ‘জনকণ্ঠ ভবন’, ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় পদক্ষেপ হাসপাতালের বেডের অপেক্ষায়: হাম আক্রান্ত এক শিশুর লড়াইয়ে উন্মোচিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা ওডিশায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা বাড়ছে, উদ্বেগ মানবাধিকারকর্মীদের ইয়েন সংকটে সতর্ক টোকিও, ‘ফোন অন রাখুন’ বার্তা মুদ্রা ব্যবসায়ীদের

ট্রাম্প অনিশ্চয়তায় এশিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার চোখে নিঃসঙ্গ ও কঠিন ভবিষ্যৎ

পূর্ব এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখলে মনে হয়, তারা এমন এক মিত্র যার অঙ্গীকারে ঘাটতি রয়েছে। এশিয়ার মিত্রদের কাছ থেকে দায়িত্বের দাবি বাড়ছে, অথচ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা দক্ষিণ কোরিয়াসহ অঞ্চলের সরকারগুলোর মনে এক গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই উদ্বেগের নাম ট্রাম্প-পরবর্তী পরিত্যাগের আশঙ্কা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা স্পষ্ট। মার্কিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও নৌবহর চিরকাল এশীয় মিত্রদের রক্ষা করবে না। একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও আছে, চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বিপজ্জনক। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের দাবি কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান অংশীদার হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে। জাপান ইতিমধ্যে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াও দিয়েছে এমন অর্থ যা তাদের সাম্প্রতিক মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশের সমান।

নিরাপত্তার পাশাপাশি রক্তের দামের কথাও উঠছে। তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংঘাত হলে দক্ষিণ কোরিয়া নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না, এমন বার্তাও পৌঁছেছে সিউলে।

রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও নতুন ঐকমত্য
দক্ষিণ কোরিয়া এক গভীরভাবে বিভক্ত সমাজ। সাম্প্রতিক অতীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের স্মৃতি এখনও তাজা। তবু ডান ও বামপন্থী মধ্যপন্থীদের মধ্যে ধীরে ধীরে এক ধরনের ঐকমত্য গড়ে উঠছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সতর্কতার প্রশ্নে।

চীনকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দেওয়া সম্ভব নয়, এ নিয়ে একমত সবাই। তবে বেইজিংয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জেরে চীনের বাণিজ্যিক প্রতিশোধ, সমুদ্রসীমা নিয়ে চাপ এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক উত্তেজনা জনমনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছে।

বড় করপোরেট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। চীনের বাজারে আগ্রহ থাকলেও সস্তা ও উন্নত প্রতিযোগীর চাপে সেই উচ্ছ্বাস কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বেছে নিতে হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পগোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিয়েছে।

পরমাণু বিতর্কের মূলধারায় প্রবেশ
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা ভাবনায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রকল্পে দুই প্রধান রাজনৈতিক ধারার সমর্থন মিলেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আলোচনা প্রান্তিক রাজনীতি ছেড়ে মূলধারায় ঢুকে পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের কিছু মহল মিত্রদের সীমিত পরমাণু সক্ষমতার ব্যাপারে আগের তুলনায় নরম।

তবে সমালোচকরাও সতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালাতে পারে। জাপান কিংবা তাইওয়ানও তখন একই পথে হাঁটতে পারে। এতে চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও নিজেদের ভাণ্ডার বাড়াবে।

নিঃসঙ্গতার ভয় ও নতুন জোটের খোঁজ
সিউলে এখন ভয়াবহ সব দৃশ্যপট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী প্রত্যাহার করতে পারে, নিরাপত্তা ছাতা সরিয়ে নিতে পারে, এমনকি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এমন এক শান্তিচুক্তি হতে পারে যা কিম জং উনের পারমাণবিক অস্ত্রকে বৈধতা দেবে। সেই ফাঁকে চীন দক্ষিণ কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব পরীক্ষা করতে পারে।

এই আশঙ্কার মধ্যেই কূটনীতিকরা বলছেন, মধ্যম শক্তিগুলোর একত্র হওয়া জরুরি। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথা উঠছে নতুন করে। ইতিহাসের তিক্ততা সত্ত্বেও দুই দেশের সমস্যা ও ভয় এখন অনেকটাই অভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হতাশাও ভাগাভাগি করা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে বাস্তবতা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের মতো পাশে না থাকে, তবে একা চলতে হলেও ভালো সঙ্গী নিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

#দক্ষিণকোরিয়া #ট্রাম্প #যুক্তরাষ্ট্র #চীন #এশিয়াররাজনীতি #নিরাপত্তা #পরমাণু_বিতর্ক #কূটনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

শীতলক্ষ্যায় তিনদিনের পুরোনো মরদেহ

ট্রাম্প অনিশ্চয়তায় এশিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার চোখে নিঃসঙ্গ ও কঠিন ভবিষ্যৎ

০৩:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পূর্ব এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দেখলে মনে হয়, তারা এমন এক মিত্র যার অঙ্গীকারে ঘাটতি রয়েছে। এশিয়ার মিত্রদের কাছ থেকে দায়িত্বের দাবি বাড়ছে, অথচ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা দক্ষিণ কোরিয়াসহ অঞ্চলের সরকারগুলোর মনে এক গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই উদ্বেগের নাম ট্রাম্প-পরবর্তী পরিত্যাগের আশঙ্কা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা স্পষ্ট। মার্কিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও নৌবহর চিরকাল এশীয় মিত্রদের রক্ষা করবে না। একই সঙ্গে সতর্কবার্তাও আছে, চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বিপজ্জনক। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের দাবি কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান অংশীদার হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে এবং সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে। জাপান ইতিমধ্যে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াও দিয়েছে এমন অর্থ যা তাদের সাম্প্রতিক মোট দেশজ উৎপাদনের বড় অংশের সমান।

নিরাপত্তার পাশাপাশি রক্তের দামের কথাও উঠছে। তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সংঘাত হলে দক্ষিণ কোরিয়া নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না, এমন বার্তাও পৌঁছেছে সিউলে।

রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেও নতুন ঐকমত্য
দক্ষিণ কোরিয়া এক গভীরভাবে বিভক্ত সমাজ। সাম্প্রতিক অতীতে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের স্মৃতি এখনও তাজা। তবু ডান ও বামপন্থী মধ্যপন্থীদের মধ্যে ধীরে ধীরে এক ধরনের ঐকমত্য গড়ে উঠছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সতর্কতার প্রশ্নে।

চীনকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দেওয়া সম্ভব নয়, এ নিয়ে একমত সবাই। তবে বেইজিংয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জেরে চীনের বাণিজ্যিক প্রতিশোধ, সমুদ্রসীমা নিয়ে চাপ এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক উত্তেজনা জনমনে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান নেতৃত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী অবস্থান নিচ্ছে।

বড় করপোরেট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। চীনের বাজারে আগ্রহ থাকলেও সস্তা ও উন্নত প্রতিযোগীর চাপে সেই উচ্ছ্বাস কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বেছে নিতে হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পগোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিয়েছে।

পরমাণু বিতর্কের মূলধারায় প্রবেশ
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তা ভাবনায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রকল্পে দুই প্রধান রাজনৈতিক ধারার সমর্থন মিলেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আলোচনা প্রান্তিক রাজনীতি ছেড়ে মূলধারায় ঢুকে পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের কিছু মহল মিত্রদের সীমিত পরমাণু সক্ষমতার ব্যাপারে আগের তুলনায় নরম।

তবে সমালোচকরাও সতর্ক। দক্ষিণ কোরিয়ার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতার আগুন জ্বালাতে পারে। জাপান কিংবা তাইওয়ানও তখন একই পথে হাঁটতে পারে। এতে চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও নিজেদের ভাণ্ডার বাড়াবে।

নিঃসঙ্গতার ভয় ও নতুন জোটের খোঁজ
সিউলে এখন ভয়াবহ সব দৃশ্যপট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাহিনী প্রত্যাহার করতে পারে, নিরাপত্তা ছাতা সরিয়ে নিতে পারে, এমনকি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এমন এক শান্তিচুক্তি হতে পারে যা কিম জং উনের পারমাণবিক অস্ত্রকে বৈধতা দেবে। সেই ফাঁকে চীন দক্ষিণ কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব পরীক্ষা করতে পারে।

এই আশঙ্কার মধ্যেই কূটনীতিকরা বলছেন, মধ্যম শক্তিগুলোর একত্র হওয়া জরুরি। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথা উঠছে নতুন করে। ইতিহাসের তিক্ততা সত্ত্বেও দুই দেশের সমস্যা ও ভয় এখন অনেকটাই অভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হতাশাও ভাগাভাগি করা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে বাস্তবতা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের মতো পাশে না থাকে, তবে একা চলতে হলেও ভালো সঙ্গী নিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

#দক্ষিণকোরিয়া #ট্রাম্প #যুক্তরাষ্ট্র #চীন #এশিয়াররাজনীতি #নিরাপত্তা #পরমাণু_বিতর্ক #কূটনীতি