০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মৃত্যুর পরও স্বস্তি: কয়লা ব্লক মামলায় সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেলেন ড. মনমোহন সিং রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে লোকসভায় তুমুল হট্টগোল, অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার দাবি বাধ্যতামূলক ভোট: গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, নাকি আরও দুর্বল?

শীতে ঘরে ঘরে গ্যাসের অনিশ্চয়তা, চাপের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

শীত এলেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এবারের শীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সংকটের চিত্র সর্বত্র একরকম নয়। কোথাও নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও কোথাও ঘরের রান্নাঘরে আগুন জ্বালাতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই বৈপরীত্য দেশের গ্যাস ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।

ঘরের চুলায় আগুন নেই

রাজধানীর অনেক আবাসিক এলাকায় শীত শুরু হলেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। কোথাও পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দিনের বড় একটি সময় চুলায় আগুন থাকে না বললেই চলে। বনশ্রী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকালে নির্দিষ্ট সময়ের পর গ্যাস প্রায় পাওয়া যায় না। দুপুরের পর কিছুটা চাপ বাড়লেও রান্নার কাজ নির্বিঘ্নে করা কঠিন হয়ে পড়ে।

একই শহরের অন্য এলাকায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসকাটন কিংবা পুরান ঢাকার কিছু অংশে বাসিন্দারা বলছেন, তারা এবার গ্যাসের তেমন সংকট অনুভব করছেন না। দিনরাত মোটামুটি স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস মিলছে। ফলে একই শহরের মধ্যেই কয়েকটি রাস্তার ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

এই বৈষম্যের পেছনে আবহাওয়ার ভূমিকার কথাও বলছেন অনেকে। উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ঢাকায় শীত তুলনামূলকভাবে মৃদু। তবুও আবাসিক গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

শিল্পখাতে তুলনামূলক স্বস্তি

আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির বিপরীতে শিল্পখাতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের উদ্যোক্তারা জানান, এ বছর শীতে বড় ধরনের গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হয়নি।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরগুলোতে যেখানে গ্যাসের চাপ একেবারে তলানিতে নেমে যেত, সেখানে এবার সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে এর পেছনে আরেকটি কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোট গ্যাসের চাহিদা কমেছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশীয় উৎপাদন কমছে, আমদানির নির্ভরতা বাড়ছে

রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। অথচ সরবরাহ করা যাচ্ছে এর চেয়ে অনেক কম। গত এক বছরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বয়সী কূপে উৎপাদন হ্রাস এবং কিছু কূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় সরবরাহ আরও সংকুচিত হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে বাড়তি দামে বিদেশ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে আমদানিকৃত গ্যাসের অংশ ক্রমেই বাড়ছে।

সরকার গভীর সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা করেছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি খোলা বাজার থেকেও আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে গ্যাস কেনা হচ্ছে। চলতি বছরে স্পট মার্কেট থেকে কেনা গ্যাসের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

চাপে থাকা ব্যবস্থাপনা

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো গ্যাস ব্যবস্থা এখন তীব্র চাপের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। শীতকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় শিল্প ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন না বাড়লে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

নতুন কূপ খননের কাজ চলমান থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের অনিশ্চয়তা আপাতত থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত

শীতে ঘরে ঘরে গ্যাসের অনিশ্চয়তা, চাপের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

১১:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

শীত এলেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। এবারের শীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সংকটের চিত্র সর্বত্র একরকম নয়। কোথাও নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও কোথাও ঘরের রান্নাঘরে আগুন জ্বালাতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই বৈপরীত্য দেশের গ্যাস ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।

ঘরের চুলায় আগুন নেই

রাজধানীর অনেক আবাসিক এলাকায় শীত শুরু হলেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। কোথাও পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দিনের বড় একটি সময় চুলায় আগুন থাকে না বললেই চলে। বনশ্রী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকালে নির্দিষ্ট সময়ের পর গ্যাস প্রায় পাওয়া যায় না। দুপুরের পর কিছুটা চাপ বাড়লেও রান্নার কাজ নির্বিঘ্নে করা কঠিন হয়ে পড়ে।

একই শহরের অন্য এলাকায় আবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসকাটন কিংবা পুরান ঢাকার কিছু অংশে বাসিন্দারা বলছেন, তারা এবার গ্যাসের তেমন সংকট অনুভব করছেন না। দিনরাত মোটামুটি স্বাভাবিক চাপেই গ্যাস মিলছে। ফলে একই শহরের মধ্যেই কয়েকটি রাস্তার ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

এই বৈষম্যের পেছনে আবহাওয়ার ভূমিকার কথাও বলছেন অনেকে। উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ঢাকায় শীত তুলনামূলকভাবে মৃদু। তবুও আবাসিক গ্যাস সরবরাহে অনিয়ম মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

শিল্পখাতে তুলনামূলক স্বস্তি

আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির বিপরীতে শিল্পখাতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের উদ্যোক্তারা জানান, এ বছর শীতে বড় ধরনের গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হয়নি।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের বছরগুলোতে যেখানে গ্যাসের চাপ একেবারে তলানিতে নেমে যেত, সেখানে এবার সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে এর পেছনে আরেকটি কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোট গ্যাসের চাহিদা কমেছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশীয় উৎপাদন কমছে, আমদানির নির্ভরতা বাড়ছে

রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। অথচ সরবরাহ করা যাচ্ছে এর চেয়ে অনেক কম। গত এক বছরে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বয়সী কূপে উৎপাদন হ্রাস এবং কিছু কূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় সরবরাহ আরও সংকুচিত হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে বাড়তি দামে বিদেশ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে আমদানিকৃত গ্যাসের অংশ ক্রমেই বাড়ছে।

সরকার গভীর সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা করেছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি খোলা বাজার থেকেও আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে গ্যাস কেনা হচ্ছে। চলতি বছরে স্পট মার্কেট থেকে কেনা গ্যাসের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

চাপে থাকা ব্যবস্থাপনা

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো গ্যাস ব্যবস্থা এখন তীব্র চাপের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। শীতকালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়ায় শিল্প ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন না বাড়লে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

নতুন কূপ খননের কাজ চলমান থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের স্বস্তি আসার সম্ভাবনা কম। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের অনিশ্চয়তা আপাতত থেকেই যাচ্ছে।