০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
চীনের এআই পরাশক্তিগুলো প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আর্থিক ক্ষতিও ব্যাপক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অচলাবস্থা: যুদ্ধ থেমেও শান্তি নেই, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে টানাপোড়েন যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়াজুড়ে বেড়েছে খাবার দাম, সংকটে বিক্রেতা ও ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ ঘিরে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ঝড়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন বিস্তার: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও তেলবাজারে অস্থিরতা চীনের উত্থান বুঝতে পশ্চিমের ব্যর্থতা: শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারাকে কেন গুরুত্ব দেওয়া উচিত ব্রিটেনে নতুন অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে জোর বিতর্ক, সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গৃহহীন অসহায় পুরুষদের টার্গেট করেই হত্যাকাণ্ড, আদালতে উঠে এলো সিরিয়াল কিলারের শিকারদের করুণ জীবন চ্যাটজিপিটির জন্য একাধিক ডিভাইস আনছে ওপেনএআই, শিগগিরই আসছে নতুন হার্ডওয়্যার রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞা বিল নিয়ে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য, ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের ঝুঁকি বহাল

ম্যানচেস্টারে গণহত্যার ছক ভেস্তে গেল, গোপন অভিযানে ধরা আইএস ঘুমন্ত জঙ্গি চক্র

ম্যানচেস্টারের ব্যস্ত রাজপথে ভয়াবহ গণহত্যার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ করে দিয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী। ইহুদি জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত এই হামলা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এটি হতে পারত সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী আঘাত। দীর্ঘ গোপন নজরদারি ও এক সাহসী ছদ্মবেশী কর্মকর্তার ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় এই রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্র

গোপনে তৈরি ভয়াবহ পরিকল্পনা
তদন্তে উঠে এসেছে, ওয়ালিদ সাদাউই ও আমর হুসেইন নামের দুই ব্যক্তি বহু বছর ধরে আইএসের ঘুমন্ত সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। বাইরে থেকে সাধারণ জীবন যাপন করলেও ভেতরে ভেতরে তারা অপেক্ষা করছিল ‘শূন্য ঘণ্টা’র। পরিকল্পনা ছিল ইহুদি সেজে ম্যানচেস্টার শহরকেন্দ্রে ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী এক সমাবেশে ঢুকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো। একই সঙ্গে জরুরি নম্বরে ভুয়া ফোন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পালিয়ে গিয়ে আশপাশের এলাকায় হামলা চালানোর ছক ছিল।

শুধু ইহুদিরাই নয়, তদন্ত নথি অনুযায়ী খ্রিস্টানদের ওপর হামলার কথাও আলোচনায় ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই হামলার মধ্য দিয়েই তারা তথাকথিত শহীদ হবে।

ছদ্মবেশী কর্মকর্তার সাহসী ভূমিকা
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন সাদাউই এক ব্যক্তিকে আইএস সমর্থক ভেবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। ওই ব্যক্তি আসলে ছিলেন পুলিশের ছদ্মবেশী কর্মকর্তা। অস্ত্র সংগ্রহের নামে তার সঙ্গে যোগাযোগ, টাকা লেনদেন ও হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা সবই পুলিশের নজরদারিতে চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বোল্টনের এক হোটেল পার্কিংয়ে অস্ত্র হস্তান্তরের মুহূর্তে সাদাউইকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে কর্মস্থল থেকে আটক হন হুসেইন।

আদালতের রায়ে প্রকাশ ভয়ংকর মানসিকতা
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় উঠে আসে তাদের চরমপন্থী মানসিকতার ভয়াবহ দিক। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদাউই শিশু হত্যা করতেও প্রস্তুত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে তার সন্তানকেও এই পথে ঠেলে দেওয়ার চিন্তা করেছিলেন। আদালতে প্রমাণিত হয়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উগ্রবাদী প্রচারণা চালাতেন এবং সহিংস হামলার প্রশংসা করতেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্ত
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শুরুতেই অনলাইনে উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে গ্রেপ্তার করলে হয়তো তারা দ্রুত মুক্তি পেয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত। তাই দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকি নিয়ে এই গোপন অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ছিল মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের, তবে এর ফলেই একটি বড় সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

বিচারে দোষী সাব্যস্ত
শেষ পর্যন্ত সাদাউই ও হুসেইনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাদাউইয়ের ভাই বিলেল সাদাউইকেও ষড়যন্ত্রের তথ্য গোপন করার অপরাধে দণ্ডিত করা হয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, নীরবে গড়ে ওঠা চরমপন্থী নেটওয়ার্ক কতটা ভয়ংকর হতে পারে এবং তা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্ব কতখানি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের এআই পরাশক্তিগুলো প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আর্থিক ক্ষতিও ব্যাপক

ম্যানচেস্টারে গণহত্যার ছক ভেস্তে গেল, গোপন অভিযানে ধরা আইএস ঘুমন্ত জঙ্গি চক্র

০২:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ম্যানচেস্টারের ব্যস্ত রাজপথে ভয়াবহ গণহত্যার পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ করে দিয়েছে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী। ইহুদি জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত এই হামলা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এটি হতে পারত সবচেয়ে ভয়ংকর সন্ত্রাসী আঘাত। দীর্ঘ গোপন নজরদারি ও এক সাহসী ছদ্মবেশী কর্মকর্তার ভূমিকার কারণে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় এই রক্তক্ষয়ী ষড়যন্ত্র

গোপনে তৈরি ভয়াবহ পরিকল্পনা
তদন্তে উঠে এসেছে, ওয়ালিদ সাদাউই ও আমর হুসেইন নামের দুই ব্যক্তি বহু বছর ধরে আইএসের ঘুমন্ত সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। বাইরে থেকে সাধারণ জীবন যাপন করলেও ভেতরে ভেতরে তারা অপেক্ষা করছিল ‘শূন্য ঘণ্টা’র। পরিকল্পনা ছিল ইহুদি সেজে ম্যানচেস্টার শহরকেন্দ্রে ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী এক সমাবেশে ঢুকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালানো। একই সঙ্গে জরুরি নম্বরে ভুয়া ফোন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পালিয়ে গিয়ে আশপাশের এলাকায় হামলা চালানোর ছক ছিল।

শুধু ইহুদিরাই নয়, তদন্ত নথি অনুযায়ী খ্রিস্টানদের ওপর হামলার কথাও আলোচনায় ছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল, এই হামলার মধ্য দিয়েই তারা তথাকথিত শহীদ হবে।

ছদ্মবেশী কর্মকর্তার সাহসী ভূমিকা
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন সাদাউই এক ব্যক্তিকে আইএস সমর্থক ভেবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। ওই ব্যক্তি আসলে ছিলেন পুলিশের ছদ্মবেশী কর্মকর্তা। অস্ত্র সংগ্রহের নামে তার সঙ্গে যোগাযোগ, টাকা লেনদেন ও হামলার বিস্তারিত পরিকল্পনা সবই পুলিশের নজরদারিতে চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বোল্টনের এক হোটেল পার্কিংয়ে অস্ত্র হস্তান্তরের মুহূর্তে সাদাউইকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে কর্মস্থল থেকে আটক হন হুসেইন।

আদালতের রায়ে প্রকাশ ভয়ংকর মানসিকতা
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় উঠে আসে তাদের চরমপন্থী মানসিকতার ভয়াবহ দিক। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদাউই শিশু হত্যা করতেও প্রস্তুত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে তার সন্তানকেও এই পথে ঠেলে দেওয়ার চিন্তা করেছিলেন। আদালতে প্রমাণিত হয়, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উগ্রবাদী প্রচারণা চালাতেন এবং সহিংস হামলার প্রশংসা করতেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্ত
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শুরুতেই অনলাইনে উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে গ্রেপ্তার করলে হয়তো তারা দ্রুত মুক্তি পেয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত। তাই দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকি নিয়ে এই গোপন অভিযান চালানো হয়। কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ছিল মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের, তবে এর ফলেই একটি বড় সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

বিচারে দোষী সাব্যস্ত
শেষ পর্যন্ত সাদাউই ও হুসেইনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাদাউইয়ের ভাই বিলেল সাদাউইকেও ষড়যন্ত্রের তথ্য গোপন করার অপরাধে দণ্ডিত করা হয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, নীরবে গড়ে ওঠা চরমপন্থী নেটওয়ার্ক কতটা ভয়ংকর হতে পারে এবং তা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্ব কতখানি।