০৭:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিক এসআইআর বিতর্কে: কে এই মনোজ আগরওয়াল ৯-১৩ এপ্রিল সাবমেরিন ক্যাবলে রক্ষণাবেক্ষণ — ইন্টারনেটে ধীরগতি ও বিঘ্নের আশঙ্কা উৎসবের আগে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা — বিজিবির বিশেষ টহল ও তল্লাশি চৌকি স্থাপন ভারত থেকে এলো আরও ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল — পাইপলাইনে সরবরাহ চলমান জাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযান: ১৫ গ্রেফতার, ৪ হাজার ইয়াবা ও দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার ঢাকা জেলা পরিষদে শত কোটি টাকা লুটপাট — ভুয়া বিল, অস্তিত্বহীন প্রকল্প, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পণ্যবাহী জাহাজ মিলছে না, মালবাহী খরচ ৪০ শতাংশ বাড়ল — হরমুজ সংকটে বাংলাদেশের বাণিজ্য পঙ্গু ৪০ দিন আটকে থেকে শারজাহ ফেরত বাংলার জয়যাত্রা — ইরান অনুমতি দিল না, ৩১ নাবিক পানি রেশনিং করে বেঁচে আছেন তিন সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ, পাঁচ সার কারখানা বন্ধ — হরমুজ সংকটে বাংলাদেশ কতটা বিপদে? রংপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর — মুসলিম তরুণ হত্যার পর উচ্ছৃঙ্খল জনতার তাণ্ডব

চৌদ্দ দেশের কণ্ঠে একসুর, পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও চাপের মুখে ইসরায়েল। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ মোট চৌদ্দটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে উনিশটি নতুন বসতি অনুমোদন দিয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না। বিবৃতিতে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্য এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানায়। দেশগুলো জানায়, যেকোনো ধরনের দখলদারি বা বসতি নীতির সম্প্রসারণের বিরোধিতা তারা আগেও করেছে এবং এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নে উদ্বেগ
এর আগে রোববার ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর লক্ষ্যেই নতুন বসতিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে জানায়, একতরফা এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এবং গাজায় চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

14 countries denounce Israel's expansion of West Bank settlements | Daily  Sabah

শান্তি প্রক্রিয়া ও দুই রাষ্ট্র সমাধান
চৌদ্দটি দেশ ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, টেকসই ও ন্যায্য শান্তির একমাত্র পথ হলো দুই রাষ্ট্র সমাধান। তাদের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সহাবস্থান করলেই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ইসরায়েলের কড়া প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক এই নিন্দার জবাবে ইসরায়েলও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, বিদেশি সরকারগুলো ইহুদিদের নিজ ভূমিতে বসবাসের অধিকার সীমিত করতে পারে না। তার ভাষায়, এ ধরনের আহ্বান নৈতিকভাবে ভুল এবং ইহুদিবিরোধী বৈষম্যের শামিল। তিনি আরও জানান, এগারোটি নতুন বসতি স্থাপন এবং অতিরিক্ত আটটি বসতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার অংশ।

পশ্চিম তীরের বাস্তবতা
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকেই পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে বর্তমানে সেখানে পাঁচ লক্ষের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে, পাশাপাশি প্রায় ত্রিশ লক্ষ ফিলিস্তিনিও ওই এলাকায় বসবাস করছে। চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের মাত্রা অন্তত দুই হাজার সতেরোর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিক এসআইআর বিতর্কে: কে এই মনোজ আগরওয়াল

চৌদ্দ দেশের কণ্ঠে একসুর, পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি সম্প্রসারণে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা

১১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও চাপের মুখে ইসরায়েল। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ মোট চৌদ্দটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে উনিশটি নতুন বসতি অনুমোদন দিয়েছে, যা তারা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করে না। বিবৃতিতে বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্য এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানায়। দেশগুলো জানায়, যেকোনো ধরনের দখলদারি বা বসতি নীতির সম্প্রসারণের বিরোধিতা তারা আগেও করেছে এবং এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছে।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নে উদ্বেগ
এর আগে রোববার ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর লক্ষ্যেই নতুন বসতিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে জানায়, একতরফা এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে এবং গাজায় চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

14 countries denounce Israel's expansion of West Bank settlements | Daily  Sabah

শান্তি প্রক্রিয়া ও দুই রাষ্ট্র সমাধান
চৌদ্দটি দেশ ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, টেকসই ও ন্যায্য শান্তির একমাত্র পথ হলো দুই রাষ্ট্র সমাধান। তাদের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সহাবস্থান করলেই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ইসরায়েলের কড়া প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক এই নিন্দার জবাবে ইসরায়েলও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, বিদেশি সরকারগুলো ইহুদিদের নিজ ভূমিতে বসবাসের অধিকার সীমিত করতে পারে না। তার ভাষায়, এ ধরনের আহ্বান নৈতিকভাবে ভুল এবং ইহুদিবিরোধী বৈষম্যের শামিল। তিনি আরও জানান, এগারোটি নতুন বসতি স্থাপন এবং অতিরিক্ত আটটি বসতিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার অংশ।

পশ্চিম তীরের বাস্তবতা
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকেই পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে বর্তমানে সেখানে পাঁচ লক্ষের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে, পাশাপাশি প্রায় ত্রিশ লক্ষ ফিলিস্তিনিও ওই এলাকায় বসবাস করছে। চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের মাত্রা অন্তত দুই হাজার সতেরোর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।