০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
ভক্সওয়াগেনের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন কেন মাটিতেই থেমে গেল: চীনে উড়ন্ত গাড়ির প্রকল্পের উত্থান, সংকট ও পতন এক দশকের স্পাইডার-ম্যান প্রেম: ছবিতে ছবিতে জেনডায়া ও টম হল্যান্ডের পথচলা বরিশালে ধর্ষণ মামলায় ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সভাপতি গ্রেপ্তার, বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার গ্যাস সংকট: ২০২৮ সালের আগে সিদ্ধান্ত না নিলে অর্থনীতির সামনে কঠিন বাস্তবতা ঢামেকে সপ্তম তলা থেকে লাফ, তরুণীর মৃত্যু অস্বীকারে বাস্তবতা বদলায় না: চীনের উত্থান ও বদলে যাওয়া বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক ঢাল: গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শক্তিরও থাকতে হবে জবাবদিহি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন দাবার ছক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায়, অর্জনের ভিত্তিতে এগোবে নতুন সহযোগিতা কুমিল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, ইউএনওর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুর উদ্ধার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু দুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
রোববার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বরইখান ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় পিএবি সড়কের পাশে শিশু দুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা জানান, শীতের মধ্যে বড় বোন ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত লোকজন সেখানে জড়ো হন।

শিশুদের পরিচয় ও বক্তব্য
উদ্ধার হওয়া বড় শিশুটির নাম আয়েশা, বয়স চার বছর। সে স্থানীয়দের জানায়, তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভির দোকান এলাকায়। সোমবার দুপুরে আয়েশা জানায়, তার ছোট ভাইয়ের নাম মোরশেদ। তাদের বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক। আয়েশার দাবি, তাদের ফুফু বাবা-মায়ের কাছ থেকে এনে সড়কের পাশে রেখে যায়।

আনোয়ারায় সড়কের পাশে দুই শিশুকে রেখে পালালো পরিবার – বাংলাধারা

বর্তমান অবস্থা ও আশ্রয়
বর্তমানে শিশু দুটি হাজীগাঁও ঝিওরি গুচ্ছগ্রামের এক স্থানীয় সিএনজি চালক মহিম উদ্দিনের বাড়িতে রয়েছে। মহিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর শীতের মধ্যে শিশু দুটিকে কাঁপতে দেখে লোকজন জড়ো হন। পরে তিনি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানান।

স্বাস্থ্যগত অবস্থা
মহিম উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, দুই শিশুই অসুস্থ এবং ছোট শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো ও খাবার দেওয়ার পর তারা কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। তিনি ধারণা করেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণেই স্বজনরা এমন অমানবিক কাজ করতে পারে।

প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠিয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শিশু দুটিকে সেফ হোমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভক্সওয়াগেনের আকাশছোঁয়া স্বপ্ন কেন মাটিতেই থেমে গেল: চীনে উড়ন্ত গাড়ির প্রকল্পের উত্থান, সংকট ও পতন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুর উদ্ধার

১১:২৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গভীর রাতে সড়কের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু দুটিকে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
রোববার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বরইখান ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় পিএবি সড়কের পাশে শিশু দুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা জানান, শীতের মধ্যে বড় বোন ছোট ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত লোকজন সেখানে জড়ো হন।

শিশুদের পরিচয় ও বক্তব্য
উদ্ধার হওয়া বড় শিশুটির নাম আয়েশা, বয়স চার বছর। সে স্থানীয়দের জানায়, তাদের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভির দোকান এলাকায়। সোমবার দুপুরে আয়েশা জানায়, তার ছোট ভাইয়ের নাম মোরশেদ। তাদের বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক। আয়েশার দাবি, তাদের ফুফু বাবা-মায়ের কাছ থেকে এনে সড়কের পাশে রেখে যায়।

আনোয়ারায় সড়কের পাশে দুই শিশুকে রেখে পালালো পরিবার – বাংলাধারা

বর্তমান অবস্থা ও আশ্রয়
বর্তমানে শিশু দুটি হাজীগাঁও ঝিওরি গুচ্ছগ্রামের এক স্থানীয় সিএনজি চালক মহিম উদ্দিনের বাড়িতে রয়েছে। মহিম উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর শীতের মধ্যে শিশু দুটিকে কাঁপতে দেখে লোকজন জড়ো হন। পরে তিনি তাদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানান।

স্বাস্থ্যগত অবস্থা
মহিম উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, দুই শিশুই অসুস্থ এবং ছোট শিশুটি শারীরিক প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো ও খাবার দেওয়ার পর তারা কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। তিনি ধারণা করেন, শিশুদের অসুস্থতার কারণেই স্বজনরা এমন অমানবিক কাজ করতে পারে।

প্রশাসন ও পুলিশের পদক্ষেপ
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুদের ছবি ও তথ্য বিভিন্ন থানায় পাঠিয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শিশু দুটিকে সেফ হোমে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।