০৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল রোজার আগেই বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুতির আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের হামে আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃত্যু ৯৭৯ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে? লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে যেসব উচ্চ বেতনের চাকরি সন্তানের জন্ম উদযাপন করি, কিন্তু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখি কি?

শহরের শ্বাসরোধ: আবর্জনা, দূষণ আর ভাঙা রাস্তায় কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ভারতের মহানগর

ভারতের বহু ঐতিহাসিক ও আধুনিক শহর আজ এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে আটকে। একদিকে আকাশছোঁয়া অবকাঠামো, ঝকঝকে বিমানবন্দর আর মেট্রোরেল। অন্যদিকে নোংরা বাতাস, ভাঙাচোরা রাস্তা, জমে থাকা আবর্জনা আর নাগরিক হতাশা। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে শুরু করে দেশের আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাই কিংবা প্রযুক্তির শহর বেঙ্গালুরু—সবখানেই একই প্রশ্ন ঘুরছে, কেন শহরগুলো দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।

শহরের রূপ আর বাস্তবতার ফারাক
পর্যটকদের চোখে রাজপ্রাসাদ আর দুর্গে মোড়া জয়পুরের গৌরবময় ইতিহাস থাকলেও স্থানীয়দের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ভিন্ন। শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্যের গায়ে তামাকের দাগ, পাশেই গাড়ির ওয়ার্কশপ, রাস্তায় যানজট আর আবর্জনার স্তূপ। এই চিত্র শুধু জয়পুরের নয়, ভারতের বড় শহরগুলোর সাধারণ বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

অবকাঠামো বাড়ছে, জীবনমান কেন নয়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে সড়ক, উড়ালপুল, বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক জীবনমান সূচকে ভারতের শহরগুলোর অবস্থান নীচের দিকেই। নাগরিকদের ক্ষোভও বাড়ছে। বেঙ্গালুরুতে যানজট ও ময়লার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শীর্ষ উদ্যোক্তারা। মুম্বাইয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতার সঙ্গে নর্দমার ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবাদে নেমেছেন বাসিন্দারা। রাজধানী দিল্লিতে শীত এলেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

India's big cities face big challenges of toxic air, broken roads and unpicked  rubbish

শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা মূল সমস্যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার গোড়ায় রয়েছে নগর শাসনের দুর্বল কাঠামো। ভারতের সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতা স্পষ্ট হলেও শহরগুলোর জন্য শক্তিশালী স্বশাসন কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ১৯৯০-এর দশকে সংবিধানের চুয়াত্তরতম সংশোধনী স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে অনেক বিধান কার্যকর হয়নি। ফলে মেয়র ও পৌরসংস্থাগুলো অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

চীনের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়
চীনে নগর প্রশাসনের চিত্র ভিন্ন। সেখানে মেয়ররা নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ অনুমোদনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে, সঙ্গে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থাও। ভারতের ক্ষেত্রে সেই জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য অনুপস্থিত।

তথ্যের ঘাটতি আর ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
ভারতের সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে বহু বছর আগে। এর মধ্যে শহুরে জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেলেও সঠিক তথ্যের অভাবে পরিকল্পনা পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার গভীরতা না বুঝে সমাধান সম্ভব নয়। ইতিহাস বলছে, বড় সংকটই পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। লন্ডনের উনিশ শতকের ভয়াবহ নর্দমা সংকট যেমন নগর ব্যবস্থার আমূল বদল ঘটিয়েছিল, তেমনি ভারতের শহরগুলোকেও হয়তো তীব্র বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই নতুন পথ খুঁজতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল

শহরের শ্বাসরোধ: আবর্জনা, দূষণ আর ভাঙা রাস্তায় কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ভারতের মহানগর

০১:২২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের বহু ঐতিহাসিক ও আধুনিক শহর আজ এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে আটকে। একদিকে আকাশছোঁয়া অবকাঠামো, ঝকঝকে বিমানবন্দর আর মেট্রোরেল। অন্যদিকে নোংরা বাতাস, ভাঙাচোরা রাস্তা, জমে থাকা আবর্জনা আর নাগরিক হতাশা। রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর থেকে শুরু করে দেশের আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাই কিংবা প্রযুক্তির শহর বেঙ্গালুরু—সবখানেই একই প্রশ্ন ঘুরছে, কেন শহরগুলো দিনে দিনে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।

শহরের রূপ আর বাস্তবতার ফারাক
পর্যটকদের চোখে রাজপ্রাসাদ আর দুর্গে মোড়া জয়পুরের গৌরবময় ইতিহাস থাকলেও স্থানীয়দের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ভিন্ন। শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্যের গায়ে তামাকের দাগ, পাশেই গাড়ির ওয়ার্কশপ, রাস্তায় যানজট আর আবর্জনার স্তূপ। এই চিত্র শুধু জয়পুরের নয়, ভারতের বড় শহরগুলোর সাধারণ বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

অবকাঠামো বাড়ছে, জীবনমান কেন নয়
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে সড়ক, উড়ালপুল, বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবু আন্তর্জাতিক জীবনমান সূচকে ভারতের শহরগুলোর অবস্থান নীচের দিকেই। নাগরিকদের ক্ষোভও বাড়ছে। বেঙ্গালুরুতে যানজট ও ময়লার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শীর্ষ উদ্যোক্তারা। মুম্বাইয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতার সঙ্গে নর্দমার ময়লা রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবাদে নেমেছেন বাসিন্দারা। রাজধানী দিল্লিতে শীত এলেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

India's big cities face big challenges of toxic air, broken roads and unpicked  rubbish

শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা মূল সমস্যা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার গোড়ায় রয়েছে নগর শাসনের দুর্বল কাঠামো। ভারতের সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতা স্পষ্ট হলেও শহরগুলোর জন্য শক্তিশালী স্বশাসন কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ১৯৯০-এর দশকে সংবিধানের চুয়াত্তরতম সংশোধনী স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে অনেক বিধান কার্যকর হয়নি। ফলে মেয়র ও পৌরসংস্থাগুলো অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।

চীনের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়
চীনে নগর প্রশাসনের চিত্র ভিন্ন। সেখানে মেয়ররা নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ অনুমোদনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতা রয়েছে, সঙ্গে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থাও। ভারতের ক্ষেত্রে সেই জবাবদিহি ও ক্ষমতার ভারসাম্য অনুপস্থিত।

তথ্যের ঘাটতি আর ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
ভারতের সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে বহু বছর আগে। এর মধ্যে শহুরে জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে গেলেও সঠিক তথ্যের অভাবে পরিকল্পনা পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার গভীরতা না বুঝে সমাধান সম্ভব নয়। ইতিহাস বলছে, বড় সংকটই পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। লন্ডনের উনিশ শতকের ভয়াবহ নর্দমা সংকট যেমন নগর ব্যবস্থার আমূল বদল ঘটিয়েছিল, তেমনি ভারতের শহরগুলোকেও হয়তো তীব্র বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই নতুন পথ খুঁজতে হবে।