উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তি আরও আক্রমণাত্মক পথে এগোচ্ছে—এমন বার্তা দিলেন দেশের নেতা কিম জং উন। নতুন ধরনের বহু নল রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরির একটি কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেছেন, এই অস্ত্র শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, এই নতুন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান আঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
কারখানায় কিমের বার্তা
ডিসেম্বরের শেষ দিকে গোলাবারুদ প্রস্তুতকারক কারখানায় উপস্থিত হয়ে কিম জং উন বলেন, নতুন রকেট ব্যবস্থা আকস্মিক ও নিখুঁত আঘাতে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সামরিক অভিযানে সমন্বিত আক্রমণের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, উচ্চ নির্ভুলতা ও বিধ্বংসী ক্ষমতার কারণে এই অস্ত্র শত্রুর প্রতিরোধ ভেঙে দিতে সক্ষম।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর পরিদর্শন
এই পরিদর্শনের আগের দিনই পিয়ংইয়ং কৌশলগত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেয়। বিদেশি হুমকির জবাবে যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রদর্শন হিসেবেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরপর এই দুই ঘটনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট করে দিল যে তারা সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে কোন ঢিলেমি করতে চায় না।
উপদ্বীপে যুদ্ধের ছায়া
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার বিশাল আর্টিলারি ভাণ্ডারই তাদের প্রধান কৌশল। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বড় শহর লক্ষ্য করে আঘাত হানা হলে এক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল প্রাণহানি ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে পিয়ংইয়ং তাদের নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অস্ত্র উন্নয়নের লক্ষ্য কেবল কোরীয় উপদ্বীপে চাপ বাড়ানো নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানো। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব অস্ত্র বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















