০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬
ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই ১০ রাউন্ড গুলি বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ বিনিয়োগে অনাগ্রহ বাড়ছে, কঠোর শর্তে আটকে যাচ্ছে নবায়নযোগ্য লক্ষ্য ২০২৫ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতি: বৈদেশিক স্থিতি ফিরলেও ব্যাংকিং সংকটে থমকে প্রবৃদ্ধি অচেনা প্রভাবের ছায়ায় শেষ অধ্যায়, নস্টালজিয়া আর ভয়ের নতুন ভাষা নতুন বছরে ক্রিপ্টো বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি ঐতিহাসিক নিম্ন স্তরে নববর্ষের ভাষণে যুদ্ধ জয়ের বার্তা: ইউক্রেনে বিজয়ের প্রত্যয় পুতিনের ডেমোক্র্যাটিক দলে অস্বস্তির নাম জোহরান মামদানি: সমাজতন্ত্রের ছায়া, ভেতরের বিভাজন ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন ইউরোস্টারের বিপর্যয়, বিদ্যুৎহীন ট্রেনে রাত কাটিয়ে বিলম্বের ধাক্কা নববর্ষে নৃত্যের কঠিন লড়াই: বিলুপ্তির ঝুঁকিতে কম্বোডিয়ার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য

কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে জমে গেছে জীবন

গ্রাম ও শহরে থমকে থাকা দিন, সবচেয়ে বেশি ভুগছেন দরিদ্র মানুষ

গত কয়েক দিন ধরে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে দিন শুরু হচ্ছে দেরিতে, শেষ হচ্ছে নিস্তেজভাবে। শহরের কোলাহল হোক বা গ্রামের খোলা প্রান্তর—সবখানেই এক ধরনের থমকে থাকা নীরবতা, যেন সময় নিজেই ধীর হয়ে গেছে।

গ্রামের বাস্তবতা: শৈত্যপ্রবাহ মানেই কাজহীন সকাল

গ্রামে শৈত্যপ্রবাহ সবচেয়ে কঠিন রূপ নেয় ভোরবেলায়। মাঠে নামার কথা থাকলেও কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে কৃষিশ্রমিকেরা কাজ শুরু করতে পারেন না। ভেজা হাওয়া শরীর কাঁপিয়ে দেয়, হাত-পা অবশ হয়ে আসে। অনেক পরিবার উঠোনে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়, সেই আগুন ঘিরে বসে থাকে শিশু আর বৃদ্ধরা। কিন্তু শীতের তীব্রতায় আগুনও অনেক সময় পর্যাপ্ত উষ্ণতা দিতে পারে না।

শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে

এই কদিনে গ্রামের দরিদ্র মানুষের আয় প্রায় বন্ধের পথে। কাজ না থাকায় বাজারে যাওয়া কমে, সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। শীত এখানে শুধু ঠান্ডা নয়, এটি ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার নাম।

শহরের চিত্র: চলমান শহরে জমে থাকা মানুষ

শহরে শৈত্যপ্রবাহ দৃশ্যমান হয় অন্যভাবে। রাস্তায় মানুষ আছে, কিন্তু গতি নেই। রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকদের সকাল শুরু হয় কাঁপুনি নিয়ে। যাত্রী কম, কাজ কম, অথচ ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেরোতেই হয়। ফুটপাতের দোকানিরা আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকেন, ক্রেতার অপেক্ষায় সময় কাটে দীর্ঘভাবে।

বস্তি এলাকাগুলোতে এই শৈত্যপ্রবাহ আরও ভয়ংকর। স্যাঁতসেঁতে ঘর, পাতলা দেয়াল আর উষ্ণ কাপড়ের অভাব একসঙ্গে মিলে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুদের সর্দি-কাশি, জ্বর, বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট—এই কদিনে সবই যেন একসঙ্গে চেপে ধরেছে।

শীতের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন | প্রথম আলো

শিক্ষা ও দৈনন্দিন ছন্দে প্রভাব

শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভুগছে। ভোরের ঠান্ডায় অনেকেই স্কুলে যেতে চাইছে না। কোথাও কোথাও উপস্থিতি কমে গেছে, পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে পড়েছে। অফিস, আদালত, বাজার—সব জায়গায় কাজ চলছে, কিন্তু স্বাভাবিক তেজ আর গতি নেই।

মানবিকতার প্রশ্ন

এই কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ আবারও সামনে এনে দিয়েছে সামাজিক বাস্তবতা। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা উষ্ণ ঘরে বসে শীত পার করছেন। আর যাদের নেই, তাদের জন্য এই ঠান্ডা প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে থাকার পরীক্ষা। কম্বল বিতরণ, সহায়তার উদ্যোগ দেখা গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও সীমিত।

উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু, জীবনযাত্রায় হঠাৎ ছন্দপতন

শেষ অনুভব

শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাবে, তাপমাত্রা আবার বাড়বে। কিন্তু এই কদিনের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বাংলাদেশের শীত শুধু আবহাওয়ার খবর নয়, এটি মানুষের জীবনের গল্প। গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষের নীরব কষ্টের গল্প, যা একটু মানবিক উদ্যোগ আর সামাজিক দায়বদ্ধতায় কিছুটা হলেও উষ্ণ হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই ১০ রাউন্ড গুলি

কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে জমে গেছে জীবন

১১:৪৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রাম ও শহরে থমকে থাকা দিন, সবচেয়ে বেশি ভুগছেন দরিদ্র মানুষ

গত কয়েক দিন ধরে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা, কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে দিন শুরু হচ্ছে দেরিতে, শেষ হচ্ছে নিস্তেজভাবে। শহরের কোলাহল হোক বা গ্রামের খোলা প্রান্তর—সবখানেই এক ধরনের থমকে থাকা নীরবতা, যেন সময় নিজেই ধীর হয়ে গেছে।

গ্রামের বাস্তবতা: শৈত্যপ্রবাহ মানেই কাজহীন সকাল

গ্রামে শৈত্যপ্রবাহ সবচেয়ে কঠিন রূপ নেয় ভোরবেলায়। মাঠে নামার কথা থাকলেও কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে কৃষিশ্রমিকেরা কাজ শুরু করতে পারেন না। ভেজা হাওয়া শরীর কাঁপিয়ে দেয়, হাত-পা অবশ হয়ে আসে। অনেক পরিবার উঠোনে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহায়, সেই আগুন ঘিরে বসে থাকে শিশু আর বৃদ্ধরা। কিন্তু শীতের তীব্রতায় আগুনও অনেক সময় পর্যাপ্ত উষ্ণতা দিতে পারে না।

শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে

এই কদিনে গ্রামের দরিদ্র মানুষের আয় প্রায় বন্ধের পথে। কাজ না থাকায় বাজারে যাওয়া কমে, সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। শীত এখানে শুধু ঠান্ডা নয়, এটি ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার নাম।

শহরের চিত্র: চলমান শহরে জমে থাকা মানুষ

শহরে শৈত্যপ্রবাহ দৃশ্যমান হয় অন্যভাবে। রাস্তায় মানুষ আছে, কিন্তু গতি নেই। রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকদের সকাল শুরু হয় কাঁপুনি নিয়ে। যাত্রী কম, কাজ কম, অথচ ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেরোতেই হয়। ফুটপাতের দোকানিরা আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকেন, ক্রেতার অপেক্ষায় সময় কাটে দীর্ঘভাবে।

বস্তি এলাকাগুলোতে এই শৈত্যপ্রবাহ আরও ভয়ংকর। স্যাঁতসেঁতে ঘর, পাতলা দেয়াল আর উষ্ণ কাপড়ের অভাব একসঙ্গে মিলে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। শিশুদের সর্দি-কাশি, জ্বর, বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট—এই কদিনে সবই যেন একসঙ্গে চেপে ধরেছে।

শীতের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচিতে পরিবর্তন | প্রথম আলো

শিক্ষা ও দৈনন্দিন ছন্দে প্রভাব

শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভুগছে। ভোরের ঠান্ডায় অনেকেই স্কুলে যেতে চাইছে না। কোথাও কোথাও উপস্থিতি কমে গেছে, পড়াশোনার স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে পড়েছে। অফিস, আদালত, বাজার—সব জায়গায় কাজ চলছে, কিন্তু স্বাভাবিক তেজ আর গতি নেই।

মানবিকতার প্রশ্ন

এই কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহ আবারও সামনে এনে দিয়েছে সামাজিক বাস্তবতা। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা উষ্ণ ঘরে বসে শীত পার করছেন। আর যাদের নেই, তাদের জন্য এই ঠান্ডা প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে থাকার পরীক্ষা। কম্বল বিতরণ, সহায়তার উদ্যোগ দেখা গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও সীমিত।

উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু, জীবনযাত্রায় হঠাৎ ছন্দপতন

শেষ অনুভব

শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাবে, তাপমাত্রা আবার বাড়বে। কিন্তু এই কদিনের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বাংলাদেশের শীত শুধু আবহাওয়ার খবর নয়, এটি মানুষের জীবনের গল্প। গ্রাম ও শহরের দরিদ্র মানুষের নীরব কষ্টের গল্প, যা একটু মানবিক উদ্যোগ আর সামাজিক দায়বদ্ধতায় কিছুটা হলেও উষ্ণ হতে পারে।