ত্রিপোলির হৃদয়ে বহু বছরের নীরবতা ভেঙে আবার মানুষের কণ্ঠস্বর। এক দশকেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জাতীয় জাদুঘর খুলতেই লিবিয়ান পরিবার আর শিক্ষার্থীদের ভিড়ে ফিরে এসেছে অতীতের ছোঁয়া। প্রাচীন ভাস্কর্য আর নিদর্শনের পাশে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা আবিষ্কার করছেন এমন এক ঐতিহ্য, যা রাজনীতি ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে।
ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ
সমুদ্রঘেঁষা ঐতিহাসিক লাল দুর্গে পা রাখলেই মনে হয় সময় বদলে গেছে। গ্রিক ও রোমান যুগের শিল্পকর্ম, অটোমান আমলের অস্ত্র ও অলংকারের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দর্শনার্থীরা লিবিয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের পথচলা দেখছেন। স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী নিরমিনে মিলাদি বললেন, অল্প সময়েই তিনি যেন অন্য এক জগতে চলে গেছেন।

আধুনিক রূপে অতীত
নতুন জাদুঘরে আলো ও বিন্যাসের যত্ন চোখে পড়ার মতো। পর্দা, দৃশ্যমান উপস্থাপনা আর ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্যবস্থায় ইতিহাসকে সহজ করে তোলা হয়েছে। ইন্টেরিয়র নকশার শিক্ষার্থী আয়া মিলাদি মনে করেন, এই আধুনিক সাজ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরকে আরও কাছে এনেছে।
অস্থিরতার পর পুনর্জাগরণ
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে লুটপাটের আশঙ্কায় সব নিদর্শন নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জানায়, সেই কঠিন সময়ে ঐতিহ্য রক্ষাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। গোপন কক্ষে লুকিয়ে রাখা সম্পদ আজ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আবার প্রকাশ্যে এসেছে।

জাতীয় প্রতীকের প্রত্যাবর্তন
একটি কক্ষ উৎসর্গ করা হয়েছে লেপ্টিস মাগনার সন্তান রোমান সম্রাট সেপটিমিয়াস সেভেরাসকে। আরেক কক্ষে প্রদর্শিত হচ্ছে বিদেশ থেকে ফেরত আসা চুরি হওয়া নিদর্শন। অনেকের চোখে এই উদ্বোধন শুধু একটি জাদুঘরের নয়, জাতীয় পরিচয়েরও প্রত্যাবর্তন।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ
শিক্ষক ফাতিমা আল ফাকি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসে বললেন, আগের অন্ধকার ও ধুলোমাখা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আজকের উজ্জ্বল জাদুঘরের পার্থক্য আকাশপাতাল। শিশুদের চোখে বিস্ময়, আর ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠছে দেশপ্রেম।

অতীত ছাড়া নয়
অনেকে মনে করেন, লিবিয়াকে যারা শুধু সংঘাতের দেশ হিসেবে দেখে, তাদের জন্য এই জাদুঘর একটি বার্তা। দর্শনার্থী সারা আল মোতামিদ তাঁর কন্যাকে নিয়ে এসেছেন এই বিশ্বাসে যে, লিবিয়ার আছে সমৃদ্ধ অতীত ও সভ্যতার উত্তরাধিকার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















