নববর্ষের ব্যস্ত সময়ে ব্রিটেন ও ইউরোপের মূল রেলযোগাযোগে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। চ্যানেল টানেলের ভেতরে বিদ্যুৎ সমস্যার জেরে ইউরোস্টার ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, পরে ধীরে ধীরে চালু হলেও বাতিল ও দীর্ঘ বিলম্বে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
চ্যানেল টানেলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী ইউরোস্টার ট্রেন মঙ্গলবার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। চ্যানেল টানেলের প্রবেশমুখে একটি ট্রেনের ওপর বৈদ্যুতিক লাইনের অংশ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে হাজারো যাত্রী স্টেশনে আটকে যান, কেউ কেউ ট্রেনের ভেতরে রাত কাটাতে বাধ্য হন।

বিলম্বে বিপর্যস্ত যাত্রীরা
লন্ডন থেকে প্যারিস গামী একাধিক ট্রেন বাতিল হয় এবং দুই দিকেই বেশিরভাগ যাত্রা নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছায়। এক যাত্রী পরিবার জানায়, সন্ধ্যার ট্রেনে ওঠার পর প্রথমে কর্মীর অভাবে ট্রেন থামে, পরে টানেলের মুখে আবার থেমে যায়। বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট ছাড়াই পুরো রাত ট্রেনের ভেতর কাটে, আর যাত্রা শেষ হতে লাগে প্রত্যাশার চেয়ে প্রায় বারো ঘণ্টা বেশি সময়।
নববর্ষে বিকল্প খোঁজার হাহাকার
নববর্ষের প্রাক্কালে লন্ডন, প্যারিস, আমস্টারডাম ও ব্রাসেলসের সব পরিষেবা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প যাতায়াত খুঁজতে হিমশিম খেতে হয়। বুধবার ইউরোস্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের দিনের বিদ্যুৎ সমস্যার পর পরিষেবা আবার শুরু হয়েছে, তবে রেল অবকাঠামোর জটিলতার কারণে আরও দেরি ও শেষ মুহূর্তে বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে।

রাতভর ট্রেনে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা
ফরাসি গণমাধ্যম জানায়, লন্ডন থেকে লিলগামী একটি ট্রেনে যাত্রীরা বিদ্যুৎ, গরমের ব্যবস্থা ও কার্যকর শৌচাগার ছাড়াই রাত কাটান। ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছায় প্রায় এগারো ঘণ্টা দেরিতে। এক যাত্রী বলেন, প্রতিবারই একই বার্তা পাওয়া যাচ্ছিল যে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে, কিন্তু সমাধানের খবর আসছিল না।
স্টেশনে উদ্বেগ আর অপেক্ষা
লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনে বুধবার সকালে কিছু ট্রেন ছাড়লেও যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাটেনি। কেউ নববর্ষের অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, কেউ আবার পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরিষেবা আংশিকভাবে চালু হলেও অনিশ্চয়তার ছায়া রয়ে গেছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















