“আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। এই অবস্থান থেকে আপনি কীভাবে বলেন—ও তো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, তাতে কী? জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সরকার গঠন করেছি, এই প্রশাসন আমাদেরই। অথচ আপনারা আমাদের লোকদের গ্রেপ্তার করছেন”—শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে এসব বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদি হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি।
শোকজ ও সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিস সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের স্বাক্ষরে শনিবার বিকেলে জারি করা নোটিশে মাহদি হাসানকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার সময় মাহদি হাসানের দেওয়া বক্তব্য সংগঠনের আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব মন্তব্যে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে পুলিশ আটক করে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করে নয়নের মুক্তির দাবি জানান।
এই কর্মসূচির সময় মাহদি হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন থানার ভেতরে প্রবেশ করে ওসির কক্ষে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান।
ভাইরাল ভিডিও ও বিতর্ক
থানার ভেতরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মাহদি হাসানকে পুলিশের উদ্দেশে থানায় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্য হত্যার প্রসঙ্গ টেনে হুমকিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংগঠনটি।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও মুক্তি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় যান। আলোচনার মাধ্যমে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মাহদি হাসানের প্রতিক্রিয়া
শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মাহদি হাসান বলেন, তার বক্তব্য অনিচ্ছাকৃত ছিল। কথার ভুল থেকে এমন মন্তব্য হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের ব্যাখ্যা
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, নয়নকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল। ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও ছিল। তবে যাচাই-বাছাই শেষে কোনো অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















