বিশ্বজুড়ে সীমান্তপারের অর্থ লেনদেনকে আরও দ্রুত ও সহজ করতে নতুন কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে সুইফট নেটওয়ার্কভুক্ত শীর্ষ ব্যাংকগুলো। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছোট অঙ্কের আন্তর্জাতিক লেনদেন আর দিনের পর দিন আটকে থাকবে না, বরং পৌঁছানোর সঙ্গেসঙ্গেই গ্রাহকের হিসাবে জমা পড়বে অর্থ।

নতুন কাঠামোতে কারা যুক্ত
সুইফটের আওতায় থাকা সতেরোটি দেশের মোট বত্রিশটি ব্যাংক ইতিমধ্যে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাবশালী ব্যাংকগুলো এতে অংশ নিচ্ছে। চলতি বছরেই পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এতদিন সময় লাগত
সুইফটের মাধ্যমে পাঠানো বেশিরভাগ অর্থ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গন্তব্য ব্যাংকে পৌঁছালেও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায়ই এক দিন বা তার বেশি সময় লেগে যায়। এর মূল কারণ সুইফটের বাইরে থাকা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব যাচাই ও প্রক্রিয়াকরণ ধাপ। বিশেষ করে ব্যাংকের কার্যদিবসের বাইরে অর্থ এলে তা পরের দিন পর্যন্ত আটকে থাকে।
কী বদলাতে চায় নতুন নিয়ম
নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলোকে উৎসাহ দেওয়া হবে অর্থ পৌঁছানোর দিনই তা গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে। এর জন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। যেহেতু সুইফটের মূল অবকাঠামো বদলাতে হচ্ছে না, তাই নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কারা বেশি উপকৃত হবেন
এই তাৎক্ষণিক লেনদেন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ভাবে একটি সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে, যা প্রায় দশ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এতে প্রবাসী ব্যক্তি ও ছোট ব্যবসায়ীরা সময়মতো আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন, যা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ফি নিয়েও স্বচ্ছতা
সীমান্তপারের লেনদেনে আরেকটি বড় সমস্যা হলো লেনদেন ফি আগে থেকে পরিষ্কার না থাকা। নতুন কাঠামোতে ব্যাংকগুলো লেনদেনের আগেই সম্ভাব্য ফি জানিয়ে দিতে পারে। এতে গ্রাহকরা আগেভাগে খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন, যদিও মোট ফি খুব বেশি বদলানোর সম্ভাবনা নেই।
প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার চাপ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ও কম খরচে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুবিধা দিয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পাশাপাশি ব্লকচেইনভিত্তিক মুদ্রা ও ডিজিটাল সম্পদের ব্যবহারও বাড়ছে। এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সুইফট ও তার সদস্য ব্যাংকগুলো নিজেদের ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















