০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
এলপিজির দাম ও সংকট সামলাতে করছাড় চায় সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ মঞ্চসজ্জিত নির্বাচন নয়—সমতাভিত্তিক ভোটের আশ্বাস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে ঝুট গুদামে ভয়াবহ আগুন, একাধিক গুদামে ছড়িয়ে পড়েছে ভুট্টাখেতে মিলল অজ্ঞাত মরদেহ, আলমডাঙ্গায় রহস্য ঘনীভূত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি সহজ করতে এসআরও ৩৮৪ সংস্কারের তাগিদ ২৯৫টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ রাশিয়ার তেল কেনায় কড়া বার্তা, ভারতসহ কয়েক দেশের ওপর পাঁচশো শতাংশ শুল্কের পক্ষে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান থামাতে সিনেটে ভোট, ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্বের পথে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঘিরে মার্কিন ভিসা নীতির নতুন সিদ্ধান্ত, অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য তৌহিদ হোসেনের

ইউরোপের কণ্ঠে এক সুর, গ্রিনল্যান্ড আমাদের নয়

যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক উপদেষ্টার মন্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আর্কটিক পরিস্থিতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াল ইউরোপ। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হলো, গ্রিনল্যান্ড কারও দখলের বস্তু নয়, এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণের।

ইউরোপীয় ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস একযোগে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড তার মানুষের। ডেনমার্ক, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেনের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেবে কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই। হোয়াইট হাউসকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্যকে বিরল ও কঠোর ইউরোপীয় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্যারিসে কূটনৈতিক উত্তাপ

প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও প্রেসিডেন্টের আত্মীয় উপস্থিত থাকলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। এই অবস্থান আসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটক করার ঘটনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে মার্কিন আগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে।

ওয়াশিংটনের বক্তব্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ সামরিকভাবে লড়াই করবে না। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা কম হওয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, দেশটির গ্রিনল্যান্ড খুবই দরকার, কারণ বরফ গলতে থাকায় সেখানে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজের সম্ভাবনা বাড়ছে।

ডেনমার্কের সতর্কবার্তা

এই মন্তব্যে ডেনমার্কে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে তা ন্যাটো জোট ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তার ভাষায়, সেটি হবে সব কিছুর শেষ। এই সতর্কতার পরই ইউরোপজুড়ে তৎপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে প্যারিসে আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগেই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ পায়।

আর্কটিক নিরাপত্তা ও ন্যাটো

ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা যৌথভাবে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড জোর করে দখল করার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের মতে, ইউরোপীয় মিত্ররা ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে আর্কটিক নিরাপদ থাকে এবং সম্ভাব্য হুমকি রোধ করা যায়।

গ্রিনল্যান্ডের কণ্ঠ

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে আলোচনার জন্য তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চান। গ্রিনল্যান্ডের ব্যবসা ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই সম্ভাব্য হুমকি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড ভালো মিত্র হলেও তার মানে এই নয় যে তারা অন্য দেশের নাগরিক হতে চায়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযুক্তিকরণের কল্পনা ছেড়ে দিতে বলেন এবং এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দেন।

ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা

হাজার হাজার বছর ধরে ইনুইট জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রিনল্যান্ডে। ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে এটি ছিল উপনিবেশ, পরে ডেনমার্কের অংশ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে, যা শীতল যুদ্ধের পরও অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেনমার্কের উপনিবেশিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হুমকির মুখে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে নতুন জোট সরকার গঠিত হয়েছে, যার ঘোষণায় স্পষ্ট লেখা, গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির দাম ও সংকট সামলাতে করছাড় চায় সরকার

ইউরোপের কণ্ঠে এক সুর, গ্রিনল্যান্ড আমাদের নয়

০৪:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক উপদেষ্টার মন্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আর্কটিক পরিস্থিতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াল ইউরোপ। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হলো, গ্রিনল্যান্ড কারও দখলের বস্তু নয়, এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার জনগণের।

ইউরোপীয় ঐক্যের স্পষ্ট বার্তা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস একযোগে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড তার মানুষের। ডেনমার্ক, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেনের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেবে কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই। হোয়াইট হাউসকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্যকে বিরল ও কঠোর ইউরোপীয় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্যারিসে কূটনৈতিক উত্তাপ

প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও প্রেসিডেন্টের আত্মীয় উপস্থিত থাকলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। এই অবস্থান আসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আটক করার ঘটনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে মার্কিন আগ্রহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে।

ওয়াশিংটনের বক্তব্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কেউ সামরিকভাবে লড়াই করবে না। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা কম হওয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, দেশটির গ্রিনল্যান্ড খুবই দরকার, কারণ বরফ গলতে থাকায় সেখানে তেল, গ্যাস ও বিরল খনিজের সম্ভাবনা বাড়ছে।

ডেনমার্কের সতর্কবার্তা

এই মন্তব্যে ডেনমার্কে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেদেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে তা ন্যাটো জোট ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। তার ভাষায়, সেটি হবে সব কিছুর শেষ। এই সতর্কতার পরই ইউরোপজুড়ে তৎপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে প্যারিসে আন্তর্জাতিক বৈঠকের আগেই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ পায়।

আর্কটিক নিরাপত্তা ও ন্যাটো

ইউরোপীয় নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা যৌথভাবে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড জোর করে দখল করার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের মতে, ইউরোপীয় মিত্ররা ইতিমধ্যেই সেখানে উপস্থিতি, কার্যক্রম ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে আর্কটিক নিরাপদ থাকে এবং সম্ভাব্য হুমকি রোধ করা যায়।

গ্রিনল্যান্ডের কণ্ঠ

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে আলোচনার জন্য তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চান। গ্রিনল্যান্ডের ব্যবসা ও খনিজ সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এই সম্ভাব্য হুমকি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড ভালো মিত্র হলেও তার মানে এই নয় যে তারা অন্য দেশের নাগরিক হতে চায়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযুক্তিকরণের কল্পনা ছেড়ে দিতে বলেন এবং এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দেন।

ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা

হাজার হাজার বছর ধরে ইনুইট জনগোষ্ঠীর বসবাস গ্রিনল্যান্ডে। ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে এটি ছিল উপনিবেশ, পরে ডেনমার্কের অংশ হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে, যা শীতল যুদ্ধের পরও অব্যাহত থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেনমার্কের উপনিবেশিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গ্রিনল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হুমকির মুখে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়ে নতুন জোট সরকার গঠিত হয়েছে, যার ঘোষণায় স্পষ্ট লেখা, গ্রিনল্যান্ড আমাদেরই।