বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্ক আবারও বড় ধরনের টানাপড়েনের মুখে পড়েছে। চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠককে নাকি বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুই দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন রিধিমা পাঠক। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো চাপ বা সিদ্ধান্তের কারণে নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই তিনি নিজ উদ্যোগে বিপিএলের উপস্থাপনা প্যানেল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
উত্তেজনার সূত্রপাত যেভাবে
সম্প্রতি ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছাড়ে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা এবং প্রতিক্রিয়া জোরালো হয়ে ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে অন্য দেশে আয়োজনের দাবি তোলে।
বিপিএল নিয়ে গুঞ্জন
এই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া উত্তেজনার মধ্যেই দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি ওঠে, এর প্রভাব পড়েছে বিপিএলেও। বলা হয়, ভারতীয় উপস্থাপিকা রিধিমা পাঠককে উপস্থাপনা প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রিধিমার স্পষ্ট বক্তব্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিধিমা পাঠক এসব দাবি নাকচ করেন। তিনি জানান, গত কয়েক ঘণ্টায় এমন একটি বয়ান ছড়ানো হয়েছে যে তাকে বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোটেও সত্য নয়।
তার ভাষায়, তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তার কাছে দেশ সবকিছুর আগে। ক্রিকেটকে তিনি কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্বের চেয়েও বড় মনে করেন এবং সততা, সম্মান ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই খেলাটির পাশে থাকার অঙ্গীকারে তিনি অটল।
ঢাকা পর্বে অনুপস্থিতি
বিপিএলের ঢাকা পর্বে রিধিমা পাঠকের উপস্থাপনা করার কথা ছিল। তবে সিদ্ধান্তের কারণে তিনি আর বাংলাদেশে আসেননি।
মুস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিবির অবস্থান
এদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জরুরি বৈঠক করে। পরে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে জানায়, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তারা ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক। একই সঙ্গে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















