জীবন কি সত্যিই বিরক্তিকর। নাকি আমরা বিরক্ত হওয়ার সুযোগটাই হারিয়ে ফেলেছি। স্মার্টফোনের পর্দা, নোটিফিকেশনের শব্দ, নিরবচ্ছিন্ন কনটেন্টের ভিড়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম নতুন এক অদ্ভুত চর্চার দিকে ঝুঁকছে। তারা কিছুই করছে না। ইচ্ছাকৃতভাবে কিছুই না করা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নতুন প্রবণতা, যেখানে বিরক্তিকেই তুলে ধরা হচ্ছে মুক্তির পথ হিসেবে।
বিরক্তি এখন আলোচনার কেন্দ্রে
ডিজিটাল ব্যস্ততার যুগে বিরক্তি যেন এক নিষিদ্ধ অনুভূতি। কিন্তু ঠিক এই অনুভূতিটিকেই ফিরিয়ে আনতে চাইছে তরুণদের একাংশ। কেউ পনেরো মিনিট চুপচাপ বসে থাকছে, কেউ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোনো পর্দা, খাবার কিংবা বিনোদন ছাড়া নিজের চিন্তার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই, ভেঙে পড়া মনোযোগ শক্তিকে নতুন করে গড়ে তোলা।

শূন্যতায় বসে থাকার অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্রের রিচমন্ডে পড়ুয়া কুড়ি বছরের এক তরুণ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছয় মিনিট সম্পূর্ণ নীরবতায় বসে ছিলেন। সামনে খোলা ল্যাপটপ থাকলেও পর্দার দিকে তাকানো নিষেধ। পেছনে ধীরে বাজছিল অপেরার সুর। এই নিস্তব্ধ সময় শেষে তিনি জানান, অদ্ভুতভাবে মানসিক শক্তি ফিরে পেয়েছেন। তার বিশ্বাস, আমরা যদি এখনই থামতে না শিখি, তাহলে যন্ত্রই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে।
ধ্যান থেকে দৈনন্দিন জীবনে
এই প্রবণতা শুধু তরুণ ভিডিও নির্মাতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি সচেতনতা নিয়ে কাজ করা এক অ্যাপ নির্মাতা আট ঘণ্টা ধরে প্লাস্টিকের টুলে বসে কাটিয়েছেন। প্রথম দুই ঘণ্টা সহজ লাগলেও বাকি সময় ছিল কঠিন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতা যেন আধুনিক যুগের এক প্রকার ধ্যান।

বিরক্তি কি সত্যিই উপকারী
মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব উদ্দীপনা বন্ধ হলে মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশ সক্রিয় হয়। এতে আত্মবিশ্লেষণ, কল্পনা আর গভীর চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে যাদের জীবনে ফোন আর ইন্টারনেট ছাড়া কিছু নেই, তাদের জন্য বিরক্তি হতে পারে নতুন আবিষ্কারের দরজা।
সতর্কতার কথাও আছে
তবে সবাই এই প্রবণতাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিচ্ছেন না। কানাডার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মনে করেন, বিরক্তি অনেক সময় জীবনের অর্থহীনতার সংকেত। শুধু কিছু না করে বসে থাকলেই সমাধান মিলবে না। বাইরে হাঁটা, নতুন শখ খোঁজা কিংবা বই পড়ার মতো কাজও মনোযোগ ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। তার কথায়, কিছু না করা মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়।

নীরবতার নতুন নায়ক
তবু অতিরিক্ত উদ্দীপনায় ক্লান্ত সমাজে বিরক্তি আজ নতুন নায়ক হয়ে উঠছে। তরুণরা বলছে, প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে বিরক্তিকে জায়গা দিলে মন ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরে পায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, যাত্রাপথে চুপ করে বসে থাকা, এসবই হতে পারে ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















