ইরানের চলমান বিক্ষোভকে সরকার পরিবর্তনের দিকে ঠেলে দিতে পশ্চিমা শক্তি পরিকল্পিতভাবে রঙিন বিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করছে—এমনই অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নিষ্ঠুর ও অর্থহীন অস্থিরতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া
মস্কোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের হুমকি ও চাপের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। একসঙ্গে ইসরায়েল ও অস্থিরতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এমনকি তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের তৎপরতার কথাও সামনে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞাই সংকটের মূল, বলছে রাশিয়া
জাখারোভা বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাই প্রধান কারণ। এসব নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। সেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ কে কাজে লাগিয়ে ইরানি রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বিস্তার
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন দেশটির মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড দরপতনে পৌঁছায়। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য এলাকায় এবং রাজনৈতিক রূপ নিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্থিরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার আশঙ্কা
রাশিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এমন কিছু হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকদের ইরান ত্যাগের সতর্কতা জারি করেছে, আর তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হস্তক্ষেপ হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















