পাহাড়ের উচ্চতা একবার নির্ধারিত হলে তা চিরস্থায়ী—এমন ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন দুই ভাই। একের পর এক দুর্গম অভিযানে আধুনিক পরিমাপযন্ত্র ব্যবহার করে তাঁরা প্রমাণ করছেন, বহু দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের সরকারি হিসাব ভুল। এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৌশলী এরিক গিলবার্টসন ও তাঁর যমজ ভাই ম্যাথিউ গিলবার্টসন।
শিখর নিয়ে সন্দেহের শুরু
দক্ষিণ কলোরাডোর ক্রেস্টোন শৃঙ্গকে বহু বছর ধরে রাজ্যের অন্যতম উচ্চতম পাহাড় হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে এরিক গিলবার্টসনের মনে সন্দেহ জাগে, পাশের আরেকটি পাথুরে অংশ আসলে আরও উঁচু কি না। নিজ চোখে দেখা আর সংখ্যার ফারাক মেটাতে তিনি ফের পাহাড়ে ওঠেন, সঙ্গে নেন সূক্ষ্ম পরিমাপযন্ত্র। দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহের পর স্পষ্ট হয়, পূর্ব ক্রেস্টোন নামের সেই শিলাখণ্ডই আসলে সামান্য হলেও বেশি উঁচু।

ভাইদের বৈজ্ঞানিক অভিযান
এরিক ও ম্যাথিউ পাহাড়ে ওঠেন শুধু জয়ের আনন্দে নয়। খাদ্য আর চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি তাঁরা বহন করেন উন্নত উপগ্রহভিত্তিক পরিমাপযন্ত্র। শৃঙ্গে পৌঁছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সংগ্রহ করেন তথ্য। এই প্রক্রিয়ায় তাঁরা ইতিমধ্যে বিশ্বের বহু দেশের সর্বোচ্চ বিন্দু নতুন করে নির্ধারণ করেছেন।
দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ খোঁজার গল্প
সৌদি আরবে একটি পাহাড়কে দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ ধরা হলেও তথ্যের সীমার মধ্যে আরেকটি পাহাড়ও সমান উচ্চতার দাবি করছিল। সন্দেহ দূর করতে দুই ভাইকেই উঠতে হয় দুই পাহাড়ে। পরিমাপে দেখা যায়, যেটি উপেক্ষিত ছিল সেটিই আসলে বেশি উঁচু। এই অভিজ্ঞতাই তাঁদের দেশভিত্তিক সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নির্ধারণ প্রকল্পে নামতে উৎসাহ দেয়।

বদলে যাওয়া পৃথিবীর মানচিত্র
তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফঢাকা চূড়ার উচ্চতাও বদলাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আগ্নেয় পাহাড়ে বরফ গলে গিয়ে পাশের পাথুরে অংশ এখন সবচেয়ে উঁচু বিন্দু হয়ে উঠেছে। সরকারি মানচিত্রে এই পরিবর্তন ধরা না পড়লেও তাঁদের তথ্য বৈজ্ঞানিক মহলে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
সত্যের খোঁজে পাহাড়চূড়া
দুই ভাইয়ের লক্ষ্য পরিষ্কার। তাঁরা পাহাড়ের আসল উচ্চতা নির্ধারণ করে তথ্য তুলে ধরতে চান। গ্রহণ করা বা না করা সংশ্লিষ্ট দেশের সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁদের মতে, পৃথিবীর ভূগোল স্থির নয়, প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সত্যটাই তাঁরা তুলে ধরছেন শৃঙ্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















