১১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা তুসনের দরজায় প্রকৃতির হাতছানি, মরুভূমি থেকে পাহাড়—অভিযানের অনন্য গন্তব্য বাংলাদেশের অর্থবাজারে বড় পরিবর্তন: লেনদেনভিত্তিক সুদের হার চালু করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন কমেছে ২৫-৩০ শতাংশ, জরুরি সরকারি সহায়তা চায় বিজিএমইএ মার্চে শেয়ারবাজার ধস, ডিএসইএক্স সূচকে বড় পতন বাখের অজানা সুরের গভীরতা: নতুনভাবে ফিরে আসছে ‘ক্লাভিয়ার-উবুং থ্রি’ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত আশা ভোঁসলের কণ্ঠে তেলুগু গানের স্মৃতি, সীমিত কাজেও অমর ছাপ স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো: প্রিমিয়াম ইয়ারবাডে নতুন মানদণ্ড, কিন্তু সবার জন্য নয় ছয় মাসে এক ইনজেকশনেই নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ, নতুন গবেষণায় আশার আলো

লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের পরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ততা

দাবানলের পরেও বাড়িতে ও মাটিতে রয়ে গেছে ধাতু ও রাসায়নিক
এক বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তর-পশ্চিমের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল কয়েক হাজার বাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং ২০ মিলিয়ন মানুষকে ধোঁয়ায় ঢেকে দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিক তথ্য না পেয়ে ক্যালটেক, জর্জিয়া টেক ও ইউসিএলএর বিজ্ঞানীরা দ্রুত একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে ধোঁয়ার উপাদান বিশ্লেষণ করেন। সাধারণ বনফায়ারের ধোঁয়া হাঁপানি ও হৃদরোগ বাড়ায়, কিন্তু এই দাবানলে পুড়েছিল প্লাস্টিক, গাড়ির ব্যাটারি ও অ্যাসবেস্টস লাগানো নির্মাণ সামগ্রী। শহরকেন্দ্রের মনিটরে সীসা ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যায়, যা দূষণের পরিধি ইঙ্গিত করে। বিজ্ঞানীরা আরও ধারণা করছেন যে আরও অনেক বিষাক্ত কণা ছড়িয়েছে কিন্তু প্রচলিত যন্ত্রে ধরা পড়েনি।

এ ছাড়া বেনজিন, টলুইন ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস বাড়ির ভেতর জমা হয়েছে। গবেষকদের মতে, শুকনো দেয়াল ও আসবাবপত্র এই রাসায়নিক শোষণ করে দীর্ঘ সময় ধরে মুক্ত করতে থাকে। আরেক দল হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম নামের একটি শিল্প দূষক খুঁজে পেয়েছে, যা সাধারণত কারখানার সঙ্গে যুক্ত। এ সব আবিষ্কার দেখায় যে দাবানল শুধু গাছপালা নয়, নির্মাণ ও শিল্পকেও পুড়িয়ে অনেক ক্ষতিকর উপাদান মুক্ত করে।

স্বাস্থ্য ও পুনরুদ্ধার
এই তথ্য শুধু গবেষণার জন্য নয়; বাসিন্দাদের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। দাবানলের ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে, আবার ধাতু ও রাসায়নিক বাগান, খেলার মাঠ ও জলাধারে জমে শিশুসহ সবার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইউসিএলএর ডেভিড আইজনম্যান বলেছেন, এবারের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা জরুরি যেন পরবর্তী দাবানলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের HEPA ফিল্টার ব্যবহার, ভেজা কাপড়ে পরিষ্কার করা এবং শ্বাসকষ্টে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই: বাগানের মাটিতে কত মাত্রায় সীসা নিরাপদ? দুষিত আসবাবপত্র কীভাবে পরিস্কার বা বদলানো উচিত? কবে ঘরে ফেরাটা নিরাপদ? গবেষকরা বায়ু, মাটি ও রক্তের নমুনার সঙ্গে স্বাস্থ্য জরিপ মিলিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন।

Long-term health impacts from LA wildfires are just becoming clear : NPR

অর্থায়ন সীমিত হলেও ইতিমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বায়ুমাপনী নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে ও পরিষ্কার নীতিমালা হালনাগাদ করতে উদ্যোগী হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এরকম দাবানল আরও ঘন ঘন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষক ইফাং ঝু মনে করিয়ে দিয়েছেন, “আগুন নিভে গেলেও প্রভাব শেষ হয় না।” তিনি ভারী ধাতু শনাক্তকারী সেন্সর বসানোর ও প্রত্যাবর্তনের জন্য স্বাস্থ্যপ্রটোকল তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

এই গবেষণা উদ্যোগে ক্যালটেক, ইউসিএলএ, জর্জিয়া টেকসহ দশটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল অংশ নিয়েছে এবং প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী বায়ু ও মাটির নমুনা সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ ও বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিতে সাহায্য করেছে। অন্য গবেষকরা রোগীদের রক্ত ও শ্বাসতন্ত্র পরীক্ষা করছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে সর্বোচ্চ দূষণের সময় বাসিন্দাদের শরীরে প্রদাহ সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে দূষণের কারণে বেশ কিছু মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে আরও সময় লাগবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্রমবর্ধমান খরা, তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের কারণে বনাঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং বাজ পড়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায়। শহরতলির নিকটে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে অগ্নিরোধী বাড়ি নির্মাণের কোড, বন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি প্রস্তুতির পরিকল্পনা হালনাগাদ করা দরকার। কর্তৃপক্ষ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল ও সম্প্রদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা পুনর্বাসন তহবিল ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ অনেক পরিবার এখনও অস্থায়ী আশ্রয়ে আছে এবং জানেন না কখন নিরাপদে ফিরতে পারবেন। সামাজিক সংগঠনগুলো আশা করছে যে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে অগ্নিকাণ্ড ও দূষণের প্রভাব মোকাবেলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি উন্নত করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারে বদলে যেতে পারে বানরের উৎপত্তির ধারণা

লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের পরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ততা

১২:৩২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দাবানলের পরেও বাড়িতে ও মাটিতে রয়ে গেছে ধাতু ও রাসায়নিক
এক বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তর-পশ্চিমের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল কয়েক হাজার বাড়ি ও গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং ২০ মিলিয়ন মানুষকে ধোঁয়ায় ঢেকে দিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সঠিক তথ্য না পেয়ে ক্যালটেক, জর্জিয়া টেক ও ইউসিএলএর বিজ্ঞানীরা দ্রুত একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে ধোঁয়ার উপাদান বিশ্লেষণ করেন। সাধারণ বনফায়ারের ধোঁয়া হাঁপানি ও হৃদরোগ বাড়ায়, কিন্তু এই দাবানলে পুড়েছিল প্লাস্টিক, গাড়ির ব্যাটারি ও অ্যাসবেস্টস লাগানো নির্মাণ সামগ্রী। শহরকেন্দ্রের মনিটরে সীসা ও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যায়, যা দূষণের পরিধি ইঙ্গিত করে। বিজ্ঞানীরা আরও ধারণা করছেন যে আরও অনেক বিষাক্ত কণা ছড়িয়েছে কিন্তু প্রচলিত যন্ত্রে ধরা পড়েনি।

এ ছাড়া বেনজিন, টলুইন ও কার্বন টেট্রাক্লোরাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস বাড়ির ভেতর জমা হয়েছে। গবেষকদের মতে, শুকনো দেয়াল ও আসবাবপত্র এই রাসায়নিক শোষণ করে দীর্ঘ সময় ধরে মুক্ত করতে থাকে। আরেক দল হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম নামের একটি শিল্প দূষক খুঁজে পেয়েছে, যা সাধারণত কারখানার সঙ্গে যুক্ত। এ সব আবিষ্কার দেখায় যে দাবানল শুধু গাছপালা নয়, নির্মাণ ও শিল্পকেও পুড়িয়ে অনেক ক্ষতিকর উপাদান মুক্ত করে।

স্বাস্থ্য ও পুনরুদ্ধার
এই তথ্য শুধু গবেষণার জন্য নয়; বাসিন্দাদের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। দাবানলের ধোঁয়া দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে, আবার ধাতু ও রাসায়নিক বাগান, খেলার মাঠ ও জলাধারে জমে শিশুসহ সবার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। ইউসিএলএর ডেভিড আইজনম্যান বলেছেন, এবারের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা জরুরি যেন পরবর্তী দাবানলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের HEPA ফিল্টার ব্যবহার, ভেজা কাপড়ে পরিষ্কার করা এবং শ্বাসকষ্টে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই: বাগানের মাটিতে কত মাত্রায় সীসা নিরাপদ? দুষিত আসবাবপত্র কীভাবে পরিস্কার বা বদলানো উচিত? কবে ঘরে ফেরাটা নিরাপদ? গবেষকরা বায়ু, মাটি ও রক্তের নমুনার সঙ্গে স্বাস্থ্য জরিপ মিলিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন।

Long-term health impacts from LA wildfires are just becoming clear : NPR

অর্থায়ন সীমিত হলেও ইতিমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বায়ুমাপনী নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে ও পরিষ্কার নীতিমালা হালনাগাদ করতে উদ্যোগী হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এরকম দাবানল আরও ঘন ঘন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষক ইফাং ঝু মনে করিয়ে দিয়েছেন, “আগুন নিভে গেলেও প্রভাব শেষ হয় না।” তিনি ভারী ধাতু শনাক্তকারী সেন্সর বসানোর ও প্রত্যাবর্তনের জন্য স্বাস্থ্যপ্রটোকল তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

এই গবেষণা উদ্যোগে ক্যালটেক, ইউসিএলএ, জর্জিয়া টেকসহ দশটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল অংশ নিয়েছে এবং প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী বায়ু ও মাটির নমুনা সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ ও বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার নিতে সাহায্য করেছে। অন্য গবেষকরা রোগীদের রক্ত ও শ্বাসতন্ত্র পরীক্ষা করছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে সর্বোচ্চ দূষণের সময় বাসিন্দাদের শরীরে প্রদাহ সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে দূষণের কারণে বেশ কিছু মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জানতে আরও সময় লাগবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্রমবর্ধমান খরা, তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের কারণে বনাঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং বাজ পড়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায়। শহরতলির নিকটে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে অগ্নিরোধী বাড়ি নির্মাণের কোড, বন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি প্রস্তুতির পরিকল্পনা হালনাগাদ করা দরকার। কর্তৃপক্ষ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল ও সম্প্রদায় কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

স্থানীয় অধিবাসীরা পুনর্বাসন তহবিল ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ অনেক পরিবার এখনও অস্থায়ী আশ্রয়ে আছে এবং জানেন না কখন নিরাপদে ফিরতে পারবেন। সামাজিক সংগঠনগুলো আশা করছে যে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে অগ্নিকাণ্ড ও দূষণের প্রভাব মোকাবেলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি উন্নত করা হবে।