নির্বাচনী প্রচারণায় কয়েকজন প্রার্থীর আচরণ ও বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে উসকানিমূলক মন্তব্য করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নয়াপল্টনের চায়না টাউন মার্কেট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী গণসংযোগের সময় অত্যন্ত উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন। অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব বক্তব্য শুধু উসকানিমূলকই নয়, অনেক ক্ষেত্রে অশালীন ও হাস্যকরও।
পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা
মির্জা আব্বাস বলেন, তাঁকে লক্ষ্য করেই ইচ্ছাকৃতভাবে এসব উসকানি দেওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি বা তাঁর সমর্থকেরা বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান বলেই তিনি এখনো এসব উসকানির জবাব দিতে চান না।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এ ধরনের আচরণ দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণসংযোগ হলেও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি
এদিন মির্জা আব্বাস চায়না টাউন মার্কেটের আশপাশের ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে হকার, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর সঙ্গে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন। তাঁর ভাষায়, কিছু প্রার্থী আগেভাগেই পুরোদমে প্রচারণা শুরু করলেও তিনি এখনো ভোট চাইছেন না। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে নিয়ম মেনেই মাঠে নামবেন।

ডাকযোগে ব্যালট নিয়ে উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ডাকযোগে ব্যালটের নকশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, বর্তমান নকশা বিভ্রান্তিকর এবং সিল দেওয়ার সময় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ব্যালট বিতরণের আগে এটি সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি, যাতে কোনো পক্ষপাত বা জটিলতা না থাকে।
হুমকিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা
এক প্রার্থীর ‘শাহজাহানপুরের দিকে বুলডোজার পাঠানো’ সংক্রান্ত মন্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, এ ধরনের ভাষা জনতাকে উসকে দেয় এবং বিশৃঙ্খলা উৎসাহিত করে। তিনি বলেন, দেশে কোথাও মব শাসন চলতে পারে না। কেউ ইচ্ছামতো কিছু করতে চাইলে তার ফল ভোগ করতেই হবে।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা
মির্জা আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য আসছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে দাঁড়ানো কোনো অপরাধ নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এটি তাঁর প্রথম নির্বাচন নয় এবং তিনি পাঁচ-ছয়বার এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর মন্তব্য, দুর্বল প্রার্থীরাই সাধারণত শক্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাই এসব তিনি খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন এবং মঙ্গলবার আরেক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
শেষে মির্জা আব্বাস তাঁর এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা উত্তেজনামূলক কথায় যেন কেউ প্রতিক্রিয়া না দেখান। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বক্তব্য দিচ্ছে, যা নির্বাচন ও সমাজ—দুয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















