আবুধাবিতে স্থলভাগে নতুন তেল আবিষ্কারের মাধ্যমে বিদেশে জ্বালানি অনুসন্ধানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো। এই আবিষ্কারকে ভারতের বৈশ্বিক জ্বালানি অভিযাত্রার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই তেল আবিষ্কার হয়েছে উর্জা ভারত পিটিই লিমিটেডের মাধ্যমে। সংস্থাটি ভারতীয় তেল করপোরেশন এবং ভারত পেট্রোরিসোর্সেস লিমিটেডের সমান অংশীদারত্বে গঠিত একটি যৌথ উদ্যোগ। ভারত পেট্রোরিসোর্সেস লিমিটেড হলো ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শিলাইফ ও হাবশান রিজার্ভারে হালকা অপরিশোধিত তেল
মন্ত্রী জানান, শিলাইফ প্লে এবং হাবশান রিজার্ভারে হালকা ধরনের অপরিশোধিত তেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি এই আবিষ্কারকে ভারতীয় তেল করপোরেশনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এখনো মজুতের পরিমাণ কিংবা বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বীকৃতি
হরদীপ সিং পুরি বলেন, এই সাফল্য ভারতীয় জ্বালানি সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশল কে শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, বিদেশে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে দেশকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আরও স্বনির্ভর করার পথে এটি একটি মাইলফলক।

দেশের ভেতরেও জোরদার অনুসন্ধান
বিদেশের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করছে ভারত। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সাতটি অবসাদী অববাহিকায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইড্রোকার্বনের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে মিশন অন্বেষণ, যা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ভূকম্পন জরিপ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ হাজার কিলোমিটার এলাকায় জরিপের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে আট হাজার কিলোমিটারের বেশি কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সমুদ্র ও উন্মুক্ত ব্লকে বিনিয়োগের আগ্রহ
মন্ত্রী আরও জানান, প্রায় দশ লক্ষ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চল অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং আগে নিষিদ্ধ ছিল এমন অধিকাংশ এলাকা এখন অনুমোদন পেয়েছে। উন্মুক্ত লাইসেন্স কর্মসূচির আওতায় প্রস্তাবিত তেল ও গ্যাস ব্লকগুলোতে দেশি ও বিদেশি সংস্থার আগ্রহ বাড়ছে বলেও তিনি জানান। আসন্ন দশম দফার নিলামে নতুন বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণের রেকর্ড হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















