রান্নাঘরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপকরণগুলোর একটি পেঁয়াজ। তার সঙ্গেই থাকে রসুন ও শ্যালট। প্রতিদিনের রান্নায় অবিচ্ছেদ্য হলেও ভুলভাবে রাখার কারণে এই উপকরণগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই ভাবেন ফ্রিজের সবজি রাখার ড্রয়ারই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সামান্য সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম জানলে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায় পেঁয়াজ, রসুন ও শ্যালট।
কেন পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়
পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার পেছনে মূল কারণ বাতাস চলাচলের অভাব, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং ভুল জায়গায় সংরক্ষণ। বিশেষ করে আলুর পাশে পেঁয়াজ রাখলে দুটিই একে অন্যকে দ্রুত পচনের দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে নরম বা আঘাতপ্রাপ্ত পেঁয়াজ কিনলে সেটিও অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে যায়।

কেমন পেঁয়াজ কিনবেন
ভালো পেঁয়াজ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো হাতে নিয়ে হালকা চেপে দেখা। শক্ত, মজবুত এবং শুকনো খোসাযুক্ত পেঁয়াজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে। চেপে ধরলে যদি দেবে যায় বা নরম লাগে, তাহলে সেই পেঁয়াজ এড়িয়ে চলাই ভালো।
সঠিকভাবে সংরক্ষণের নিয়ম
পেঁয়াজ, রসুন ও শ্যালট খোসাসহ একটি বাতাস চলাচলকারী ঝুড়ি বা ঝুলন্ত ব্যাগে রাখা সবচেয়ে ভালো। জায়গাটি হতে হবে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক। মাঝেমধ্যে পেঁয়াজগুলো পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো পেঁয়াজ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে, না হলে বাকিগুলোকেও নষ্ট করে দেবে। আলু থেকে পেঁয়াজ আলাদা রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

তবে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। মিষ্টি জাতের পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এগুলো তুলনামূলক দ্রুত নষ্ট হয়। এসব পেঁয়াজ শ্বাস নেওয়া যায় এমন ব্যাগে রেখে ফ্রিজের সবজি রাখার অংশে সংরক্ষণ করলে ভালো থাকে।
অঙ্কুরিত পেঁয়াজ ও রসুন কি ফেলবেন
অনেকের ধারণা, রসুন বা পেঁয়াজে অঙ্কুর বের হলে তা খাওয়ার অযোগ্য। বাস্তবে এই অঙ্কুর খাওয়া যায়। স্বাদে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তাই নিজের রুচি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। চাইলে রসুনের কোয়া বা পেঁয়াজের গোড়ার অংশ মাটিতে লাগিয়ে নতুন গাছও করা যায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















