মেলবোর্নের তপ্ত রোদে শুরু হচ্ছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম, আটলান্টিক মহাসাগরে রেকর্ড ভাঙার দৌড়, আর মরক্কোতে অর্ধশতকের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন—এই সপ্তাহজুড়ে বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গন যেন একসঙ্গে চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে।
মেলবোর্নে টেনিসের মহারণ
রোববার মেলবোর্ন পার্কে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। নীল কোর্ট আর প্রখর রোদের নিচে নতুন মৌসুমের ঘোষণা দিচ্ছে টেনিস। পুরুষদের টেনিসে আলোচনার কেন্দ্রে ইতালির জানিক সিনার ও স্পেনের কার্লোস আলকারাজ। গত দুই মৌসুমে বড় শিরোপা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া এই দুজনকেই ধরা হচ্ছে এবারেরও প্রধান দাবিদার হিসেবে। সিনারের জন্য মেলবোর্ন যেন নিজের ঘরের মতো। টানা দুই বছর এই কোর্টে অপরাজিত তিনি। অন্যদিকে আলকারাজ এখনও এখানে প্রথম শিরোপার অপেক্ষায়, তবে মাত্র বাইশ বছর বয়সে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের হাতছানি তার অনুপ্রেরণাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই দুজনের পেছনে নীরবে অপেক্ষায় আছেন নোভাক জোকোভিচ। দশবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনজয়ী সার্বিয়ান কিংবদন্তি এবার পঁচিশতম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে নামছেন। প্রশ্ন একটাই, মেলবোর্নের দাবদাহে টানা দুই সপ্তাহ তার শরীর কতটা সঙ্গ দেবে।
নারীদের বিভাগে শক্তিশালী ফেবারিট বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা। আগের দুই শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফ, আমান্ডা আনিসিমোভা ও জেসিকা পেগুলা যে কোনো সময় সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।
আটলান্টিকে গতির রাজত্ব
লানসারোতে থেকে তিন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অ্যান্টিগুয়ার পথে ছুটছে আর্গো। রোরসি ট্রান্স অ্যাটলান্টিক রেসে এই ট্রিমারান কার্যত গতির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। বাতাস অনুকূলে আসতেই ঘণ্টায় ত্রিশ নটের বেশি গতিতে সমুদ্র কেটে এগিয়ে চলেছে তারা। দিন আর রাতের পার্থক্য মুছে গেছে নাবিকদের জীবনে। পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরপর হাল ধরা বদল, চোখে লবণজল, মুখে সমুদ্রের ঝাপটা—এই নিরবচ্ছিন্ন লড়াইই আর্গোকে এনে দিচ্ছে এগিয়ে থাকার শক্তি।
অভিজ্ঞ নাবিকদের এই দল জানে কীভাবে সীমার প্রান্তে থেকেও নৌকাকে ধরে রাখতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার ভোরের আগেই অ্যান্টিগুয়ায় পৌঁছে লাইন অনার জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়াবে আর্গো। যদিও চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে পরে, সংশোধিত সময় গণনার পর।

আফ্রিকার শিরোপার লড়াই
রোববার রাবাতে মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও সেনেগাল। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে স্বাগতিকদের সামনে পঞ্চাশ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর সুযোগ। পুরো টুর্নামেন্টে মরক্কো খেলেছে নিয়ন্ত্রিত ও হিসেবি ফুটবল। সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচের পর টাইব্রেকারে জয় তাদের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
সেনেগাল এসেছে আরও আত্মবিশ্বাসী চেহারায়। মিশরের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে সাদিও মানের গোল দেখিয়ে দিয়েছে বড় ম্যাচে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও তার আছে। পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন, দর্শক উপস্থিতি ও গোলের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড গড়েছে। শীতকালীন সময়সূচি কিছুটা উষ্ণতা কমালেও উত্তেজনার ঘাটতি নেই।

আরও যে খেলাগুলো নজরে
মার্কিন ফুটবলে প্লে-অফের ডিভিশনাল রাউন্ডে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। ডাকার র্যালিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের পালা। আলপাইন স্কিতে বয়সকে হার মানিয়ে লিন্ডসি ভনের দাপট অব্যাহত। বরফের মাঠে ব্যান্ডির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও স্নুকারের মাস্টার্স ফাইনালও যোগ করছে আলাদা রং।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















