০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল ও ক্ষমতার সমীকরণ: ব্যর্থতা এড়াতে কোন পথে ওয়াশিংটন তামিম ইকবাল, বিসিবি ও কোয়াব- ত্রিমুখী সংকটের নেপথ্যের রাজনীতি ও পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আমেরিকা ২৫০ বছরে: বর্তমান সংকটে ইতিহাসের শিক্ষা রাশিয়ার মধ্যস্থতার প্রস্তাব, ইরান সংকটে শান্তির বার্তা পুতিনের দুবাইয়ের ভবিষ্যৎ কল্পনায় সিক্কা আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন উৎসবের চতুর্দশ আসর শুরু ভবিষ্যৎ জিততে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে নতুন করে লিখতে হবে তার শিল্পনীতির নিয়মকানুন শারজাহর মরুভূমিতে সবুজ বিপ্লব, ম্লেইহা গম খামার ঘুরে দেখলেন জানজিবার এর ফার্স্ট লেডি নীল আকাশের মূল্য ঠান্ডা ঘর বেইজিং পরিষ্কার রাখতে হেবেইয়ের কৃষকরা বিপাকে সংকল্পের দিনে ঐক্যের শপথ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে দমন-পীড়নের পর স্তব্ধ রাজপথ, তবু আতঙ্কে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

মিনেসোটায় অভিবাসন ইস্যুতে তোলপাড়, গভর্নর ও মেয়রের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

তদন্তের পেছনের অভিযোগ

সূত্রের দাবি, মিনেসোটার শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট নেতা অভিবাসন ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা তদন্তের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গভর্নর ওয়ালজ ও মেয়র ফ্রের নামে সমন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

এই তদন্তের সূত্রপাত হয় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিনিয়াপোলিস অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক অভিবাসন ও সীমান্ত টহল কর্মকর্তার মোতায়েন ঘিরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেখানে প্রায় তিন হাজার ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো হয়, যা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

DOJ investigating Minnesota governor, Minneapolis mayor, who decry probe as  intimidation tactic | National Politics | applevalleynewsnow.com

ওয়ালজের কড়া প্রতিক্রিয়া

তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান গভর্নর টিম ওয়ালজ। তার ভাষ্য, ফেডারেল বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ভয় দেখাতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওয়ালজ অতীতে কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার উদাহরণ টেনে বলেন, এটি একটি কর্তৃত্ববাদী কৌশলের স্পষ্ট লক্ষণ।

মেয়র ফ্রের অবস্থান

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেও তদন্তকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, শহরের বাসিন্দা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাকে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানকে বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

রাস্তায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় সাত জানুয়ারি এক মর্মান্তিক ঘটনার পর। ওইদিন এক অভিবাসন কর্মকর্তা গুলিতে এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হলে শহরে প্রতিদিনের মতো প্রতিবাদ শুরু হয়, যা পরে অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

গভর্নর ওয়ালজ একদিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানালেও, অন্যদিকে নাগরিকদের যেকোনো গ্রেপ্তার বা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের পরামর্শ দেন। তার মতে, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে এসব তথ্য কাজে লাগতে পারে।

US Justice Department opens criminal investigation into Minnesota officials  - ABC News

বিচার বিভাগের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একই সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ গভর্নর ও মেয়রের বক্তব্যকেই সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জন্য দায়ী করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতির সমালোচনামূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ফৌজদারি মামলা অত্যন্ত বিরল। ফলে এই তদন্তের আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

US Justice Department probing Minnesota Governor Walz, other officials, source  says

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সামনে কী

ওয়ালজ ও ফ্রে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এই অভিযান জনমনে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করছে এবং রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ মিনেসোটা রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলার তেল ও ক্ষমতার সমীকরণ: ব্যর্থতা এড়াতে কোন পথে ওয়াশিংটন

মিনেসোটায় অভিবাসন ইস্যুতে তোলপাড়, গভর্নর ও মেয়রের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

০৪:০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। গভর্নর টিম ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টি জানিয়েছেন তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

তদন্তের পেছনের অভিযোগ

সূত্রের দাবি, মিনেসোটার শীর্ষ দুই ডেমোক্র্যাট নেতা অভিবাসন ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা তদন্তের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গভর্নর ওয়ালজ ও মেয়র ফ্রের নামে সমন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

এই তদন্তের সূত্রপাত হয় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিনিয়াপোলিস অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক অভিবাসন ও সীমান্ত টহল কর্মকর্তার মোতায়েন ঘিরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেখানে প্রায় তিন হাজার ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো হয়, যা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

DOJ investigating Minnesota governor, Minneapolis mayor, who decry probe as  intimidation tactic | National Politics | applevalleynewsnow.com

ওয়ালজের কড়া প্রতিক্রিয়া

তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান গভর্নর টিম ওয়ালজ। তার ভাষ্য, ফেডারেল বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ভয় দেখাতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওয়ালজ অতীতে কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার উদাহরণ টেনে বলেন, এটি একটি কর্তৃত্ববাদী কৌশলের স্পষ্ট লক্ষণ।

মেয়র ফ্রের অবস্থান

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেও তদন্তকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, শহরের বাসিন্দা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই তাকে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানকে বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

রাস্তায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় সাত জানুয়ারি এক মর্মান্তিক ঘটনার পর। ওইদিন এক অভিবাসন কর্মকর্তা গুলিতে এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হলে শহরে প্রতিদিনের মতো প্রতিবাদ শুরু হয়, যা পরে অন্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

গভর্নর ওয়ালজ একদিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানালেও, অন্যদিকে নাগরিকদের যেকোনো গ্রেপ্তার বা সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের পরামর্শ দেন। তার মতে, ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে এসব তথ্য কাজে লাগতে পারে।

US Justice Department opens criminal investigation into Minnesota officials  - ABC News

বিচার বিভাগের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একই সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ গভর্নর ও মেয়রের বক্তব্যকেই সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জন্য দায়ী করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নীতির সমালোচনামূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক ফৌজদারি মামলা অত্যন্ত বিরল। ফলে এই তদন্তের আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

US Justice Department probing Minnesota Governor Walz, other officials, source  says

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সামনে কী

ওয়ালজ ও ফ্রে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এই অভিযান জনমনে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করছে এবং রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ মিনেসোটা রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।