যেনতেন ভোট আয়োজনের চেয়ে কিছুদিন দেরি হলেও একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেও এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথা বলেছে দলটি।
দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতে কড়া বার্তা
দ্বৈত নাগরিক বা ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিপি। দলটির মতে, সংবিধানের কোনো ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কাউকে প্রার্থী করার চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন করবে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভেতরে নানা যুক্তি ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে দ্বৈত নাগরিকদের বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, এটি সংবিধান, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী শত শত লোক ও আইনজীবী নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, আর কমিশনও তাদের নানাভাবে ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
নির্বাচনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিএনপি নেতার সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, গণতন্ত্রের ধারক হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের কিছু কর্মকাণ্ড সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে আবার দেশে ফিরে জনপ্রতিনিধি হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের এই তৎপরতা গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্দোলন ও পুনর্গঠনের অবস্থান স্পষ্ট
প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায় থেকেই নির্বাচন কমিশনের একপাক্ষিক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন আসিফ মাহমুদ। হলফনামার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা হলে কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
তার ভাষায়, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে হলেও কিছুদিন দেরি করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই এনসিপির মূল অগ্রাধিকার।
সরকার ও কমিশনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার হলে রাজনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো ন্যায্য।
তিনি বলেন, এনসিপি আগেও গণতান্ত্রিক দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে সেই পথেই থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















