যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের চাপের মধ্যেও ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের প্রধান রপ্তানি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে। সরকারি পূর্বাভাস ছাড়িয়ে এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে স্বস্তি দিলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে পরিস্থিতি হবে আরও কঠিন। বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধীরগতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শুল্কের পূর্ণ প্রভাব তখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।
রপ্তানিতে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল
এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তেলবিহীন দেশীয় রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সরকারি পূর্বাভাস ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বছর এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও এমন ফলকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।
ডিসেম্বর মাসে তেলবিহীন রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এটি আগের মাসগুলোর তুলনায় কিছুটা কম। নভেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ২১ দশমিক ১ শতাংশ।
ইলেকট্রনিক পণ্যে জোরালো গতি
ইলেকট্রনিক খাতে টানা চতুর্থ মাসে দ্বিঅঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিসেম্বর মাসে এই খাতে রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সমন্বিত সার্কিট, ডিস্ক মিডিয়া পণ্য এবং টেলিযোগাযোগ যন্ত্রাংশ এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সার্ভার ও যন্ত্রাংশের চাহিদা এই খাতকে শক্তিশালী করে রেখেছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে ইলেকট্রনিক রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অইলেকট্রনিক খাতে মিশ্র চিত্র
ডিসেম্বর মাসে অইলেকট্রনিক রপ্তানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে আগের মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। অমুদ্রিত সোনা ও বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি কিছুটা সহায়তা দিলেও সামগ্রিকভাবে গতি কমেছে।
রপ্তানি গন্তব্যের দিক থেকে চীন, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইউরোপে রপ্তানি কমেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি এক মাসে বড় ধরনের পতন দেখিয়েছে, যা আগের মাসের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ফল বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা।
২০২৬ সালে চ্যালেঞ্জ বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে তেলবিহীন রপ্তানির প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ১ থেকে ৩ শতাংশে। শুল্কের পূর্ণ প্রভাব, আগাম চালান পাঠানোর প্রবণতা কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক চাহিদার ধীরগতি এর প্রধান কারণ হতে পারে।
তবে সিঙ্গাপুরের শক্তিশালী ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান কিছুটা স্বস্তি দেবে। তুলনামূলক কম শুল্ক সুবিধার কারণে পুনরায় রুট নির্ধারণ ও পণ্য পরিবহনে দেশটি লাভবান হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতের ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি খাতের পুনরুদ্ধার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট চাহিদা ২০২৬ সালেও রপ্তানিনির্ভর উৎপাদন খাতকে সহায়তা দেবে। উন্নত চিপ কারখানা চালু হওয়া এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়লে সিঙ্গাপুরের অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।
তবে ওষুধ খাতের রপ্তানি কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ আগাম রপ্তানির ধারা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















