ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত নতুন নির্বাহী বোর্ডের গঠন তাদের সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্য
শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যে গাজা নির্বাহী বোর্ডের সদস্য তালিকা ঘোষণা করেছে, তা ইসরায়েল সরকারের অবস্থানের বিপরীত। একই সঙ্গে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আপত্তির কথা তুলে ধরবেন।

বোর্ডের গঠন নিয়ে অস্পষ্টতা
ইসরায়েলি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি, বোর্ডের কোন অংশ বা কোন সদস্য তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েল সরকারের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি
হোয়াইট হাউস ঘোষিত এই নির্বাহী বোর্ডে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিশেষ আপত্তি রয়েছে ইসরায়েলের। গাজা অঞ্চলে তুরস্কের যেকোনো ভূমিকার বিরোধিতা করে আসছে তেল আবিব। ইসরায়েলের মতে, এই অন্তর্ভুক্তি তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অবস্থানের পরিপন্থী।
বোর্ডের অন্য সদস্যরা
নতুন নির্বাহী বোর্ডে আরও রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়ক সিগরিদ কাগ, এক ইসরায়েলি সাইপ্রাস বংশোদ্ভূত ধনকুবের এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য যে, দুই হাজার বিশ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

গাজা যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ধাপ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র একই সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হচ্ছে। এই ধাপে গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
বোর্ড অব পিস ও তদারকি কাঠামো
গাজার অস্থায়ী শাসন ব্যবস্থা তদারকির জন্য গঠিত তথাকথিত বোর্ড অব পিস এর প্রথম সদস্যদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। এই বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মার্কো রুবিও, ধনকুবের উদ্যোক্তা স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















