সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেসরকারি খাতে কর্মরত ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসিক ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ছয় হাজার দিরহাম করায় আমিরাতি নাগরিকদের বেতন যেমন বেড়েছে, তেমনি বেসরকারি খাতে কাজের আগ্রহ ও স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়োগ ও মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হাইব্রিড কাজের সুযোগ, প্রতিযোগিতামূলক বেতন ও স্পষ্ট ক্যারিয়ার অগ্রগতির বিষয়গুলো এখন আমিরাতি পেশাজীবীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বেতন বৃদ্ধির প্রভাব ও সরকারি উদ্যোগ
মানবসম্পদ ও আমিরাতিকরণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী দুই হাজার ছাব্বিশ সালের জানুয়ারি থেকে বেসরকারি খাতে কর্মরত আমিরাতিদের ন্যূনতম বেতন পাঁচ হাজার থেকে বাড়িয়ে ছয় হাজার দিরহাম করা হয়েছে। নিয়োগ বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার পঁচিশ সালে আমিরাতি নাগরিকদের গড় বেতন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই ঘোষিত ন্যূনতম বেতনের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত কম বেতনভুক্ত খাতগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আরও বেশি আমিরাতিকে যুক্ত করতে সরকারের একটি কৌশলগত আস্থা তৈরির পদক্ষেপ।

বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য
সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তরুণ নাগরিকদের জন্য বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নিচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। নিয়োগ পরামর্শকদের মতে, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতে আমিরাতি প্রতিভার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষ ও উৎসাহী স্থানীয় কর্মী পাওয়ার সুযোগ পাবে।
হাইব্রিড কাজ ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির চাহিদা
বর্তমান শ্রমবাজারে আমিরাতি পেশাজীবীদের অগ্রাধিকারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, শুধু বেতন নয়, এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে হাইব্রিড কাজের সুবিধা, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ ও অর্থবহ ক্যারিয়ার পথ। বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, সুপরিচিত ব্র্যান্ড কিংবা প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় ব্যবসার প্রতিই আমিরাতিদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে শেখার সুযোগ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও স্পষ্ট পদোন্নতির পথ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
শিক্ষা অনুযায়ী চাকরির পছন্দ
নিয়োগ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্নাতক ডিগ্রিধারী আমিরাতিরা সাধারণত হিসাব রক্ষণ, অর্থনীতি, প্রকৌশল সহ নিজ নিজ শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নরা তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয়, যেখানে ভবিষ্যৎ দক্ষতা অর্জন ও উন্নতির সুযোগ রয়েছে এমন কাজ বেছে নিচ্ছেন। এই প্রবণতা দেখাচ্ছে যে, আমিরাতি নাগরিকরা সক্রিয়ভাবে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















