উত্তর আটলান্টিকের গভীর সমুদ্রে আবারও তীব্র হচ্ছে সাবমেরিন শিকার ও লুকোচুরির লড়াই। শীতল যুদ্ধের সময়কার সেই পুরোনো দৃশ্য এখন নতুন প্রযুক্তিতে ফিরে এসেছে। রুশ সাবমেরিনের নীরব উপস্থিতি আর ন্যাটো বাহিনীর নজরদারির এই দ্বন্দ্বে ব্রিটেন ক্রমেই চাপে পড়ছে।
সাবমেরিন সংকটে ব্রিটিশ নৌবাহিনী
ব্রিটেনের রয়্যাল নেভির কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন ও ফ্রিগেট নেই। অন্যদিকে রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন আগের চেয়ে অনেক বেশি নীরব, যা শনাক্ত করা কঠিন। এর ফলে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে রুশ সাবমেরিনের উত্তর আটলান্টিকে প্রবেশ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

অ্যাটলান্টিক ব্যাস্টিয়ন কর্মসূচি
এই সংকট মোকাবিলায় ব্রিটেন চালু করতে চাইছে অ্যাটলান্টিক ব্যাস্টিয়ন কর্মসূচি। এর মূল ধারণা হলো মানব চালিত যুদ্ধজাহাজ ও বিমানকে সমুদ্রতলের সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় যান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শব্দ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। সমুদ্রের স্বাভাবিক শব্দের ভিড় থেকে সন্দেহজনক শব্দ আলাদা করে চিহ্নিত করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় সমুদ্রের নিচে চলাচল করতে সক্ষম শক্তিহীন গ্লাইডারও এতে ব্যবহৃত হবে। ব্যতিক্রমী বিষয় হলো, এই পুরো সেন্সর নেটওয়ার্ক পরিচালনা করবে বেসরকারি ঠিকাদাররা, এক ধরনের সেবা ভিত্তিক সাবমেরিন শিকার ব্যবস্থা।
প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি
এই ধারণা যতটা বুদ্ধিদীপ্ত, ততটাই সীমাবদ্ধতাও আছে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগেই রাশিয়া দ্রুত সাবমেরিন পাঠিয়ে এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ পার হয়ে গেলে তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সেন্সর নির্দিষ্ট এলাকায় ভালো কাজ করলেও পুরো আটলান্টিক জুড়ে একই দক্ষতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে বারমুডার পূর্বের সারগাসো সাগরে উষ্ণ ও শীতল পানির মিশ্রণে শব্দের গতি বদলে যায়, যা শনাক্তকরণ আরও জটিল করে তোলে।

বরফের নিচে রুশ কৌশল
আরও গোপন কৌশল হিসেবে রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের উত্তরের ঘন বরফের নিচ দিয়ে সাবমেরিন চালানোর অনুশীলন করছে। এতে সেন্সর বসানো সংকীর্ণ পথ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এই ধরনের অভিযানে ন্যাটো দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্যরা, অনেকটাই অনভিজ্ঞ। রয়্যাল নেভির সর্বশেষ প্রকাশ্য বরফের নিচে মহড়া হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে।
ব্রিটেনের পাল্টা জবাবের ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর জবাবে ব্রিটেনকে রাশিয়ার উপকূলের কাছাকাছি আরও শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলতে হবে, যাতে রুশ সাবমেরিনগুলো আবার উত্তর দিকে ফিরতে বাধ্য হয়। কিন্তু বর্তমানে ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজগুলোর অস্ত্র শক্তি সীমিত, এমনকি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা নেই। রয়্যাল নেভি যে অ্যাটলান্টিক স্ট্রাইক ধারণার কথা বলছে, তাতে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন নৌযানের সম্ভাবনা থাকলেও বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, উত্তর আটলান্টিকে রোবটযুদ্ধের যুগ দ্রুত এগিয়ে আসছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















