সিঙ্গাপুর ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে আয় নির্ভর বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন তহবিল চালু করেছে জে পি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। শনিবার সিঙ্গাপুরে ঘোষিত এই তহবিলের মাধ্যমে মূলধনের প্রায় অর্ধেক বিনিয়োগ করা হবে সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত শেয়ারে, যার লক্ষ্য নিয়মিত লভ্যাংশ আয় নিশ্চিত করা।
নতুন তহবিলের কাঠামো
জে পি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, নতুন সিঙ্গাপুর ও এশিয়া ইকুইটি ইনকাম তহবিলের মোট বিনিয়োগের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ থাকবে সিঙ্গাপুরের শেয়ারে। এর মধ্যে প্রায় পনের থেকে পঁচিশ শতাংশ মূলধন যাবে এমন ছোট প্রতিষ্ঠানে, যারা দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মিটিয়েও উদ্বৃত্ত নগদ অর্থ তৈরি করতে সক্ষম। তহবিলটির বিনিয়োগ কাঠামো বৈচিত্র্যময় রাখা হবে এবং ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কোনো একক খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সরকারি কর্মসূচির সহায়তা
এই তহবিলটি চালু হয়েছে ইকুইটি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্বাচিত তহবিল ব্যবস্থাপকদের জন্য প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যাতে তারা সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে। বাজারে তারল্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফেরানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কোন খাতে সম্ভাবনা
তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে জে পি মরগান মনে করছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ, অবকাঠামো ও আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তহবিলের বাকি পঞ্চাশ শতাংশ বিনিয়োগ করা হবে জাপান বাদে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এমন কিছু প্রতিষ্ঠানও থাকতে পারে, যারা ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আয়ের কৌশল ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
জে পি মরগান বলেছে, অন্যান্য ইকুইটি মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের তহবিলের তুলনায় তাদের তহবিলের মূল পার্থক্য হলো আয়কেন্দ্রিক কৌশল। এই তহবিলে মূলত লভ্যাংশ প্রদানকারী শেয়ারে বিনিয়োগ করা হবে এবং আয় বাড়াতে বিশেষ আর্থিক কৌশল ব্যবহার করা হবে। এর ফলে বাজারের ওঠানামা ও মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তন থেকে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কিছুটা কমবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এশিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি
তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দলের এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আয়ভিত্তিক বিনিয়োগে পনের বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের মতে, চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং প্রযুক্তিখাতে প্রবৃদ্ধির ধারা এই তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সম্ভাবনা বাড়াবে। জে পি মরগান জানিয়েছে, তারা কেবল বেশি লভ্যাংশ দেওয়া শেয়ার বেছে নিচ্ছে না, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য টেকসই মুনাফা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য
এই তহবিল মূলত সিঙ্গাপুরভিত্তিক সঞ্চয়কারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যারা নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে উপস্থিত থাকতে চান। তহবিল ব্যবস্থাপকদের মতে, আঞ্চলিক বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণের ফলে সিঙ্গাপুর বা এশিয়ার কোনো একটি বাজার দুর্বল হলেও সামগ্রিক বিনিয়োগ ঝুঁকি ভারসাম্য রাখা সম্ভব হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















