স্মার্টফোন ছাড়া থাকা আজকের দিনে যেন অকল্পনীয়। কিন্তু এই সারাক্ষণ সংযুক্ত থাকার অভ্যাসই হয়ে উঠেছে অনেকের মানসিক অস্বস্তির কারণ। যুক্তরাজ্যের এক তরুণী লেখক নিজের ফোন ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে বেছে নিলেন একেবারেই ব্যতিক্রমী পথ। আধুনিক অ্যাপ বা ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মধ্যযুগীয় কায়দায় ফোনে শিকল বেঁধে নিজেকে আলাদা করলেন পর্দার নেশা থেকে।
সর্বক্ষণ সংযুক্ত থাকার ক্লান্তি
আজকের দিনে ফোনে চোখ আটকে থাকা নিয়ে প্রায় সব সাংস্কৃতিক আলোচনা একই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। আমরা ফোনে আটকে পড়েছি, অ্যালগরিদমের দাসে পরিণত হয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, মানুষ টেলিভিশনের চেয়েও বেশি সময় কাটাচ্ছে ফোনের পর্দায়। এই অবস্থা থেকে বেরোতে চান অধিকাংশ মানুষই। লেখকও ছিলেন তাঁদের একজন।
অফিসের সিদ্ধান্ত বদলে দিল অভ্যাস
যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন, সেখানে হঠাৎ সিদ্ধান্ত হয় কর্মীদের ফোন থেকে কাজের যোগাযোগের অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে। আর এই নির্দেশই যেন তাঁর জন্য মুক্তির অনুমতি হয়ে আসে। কাজের জন্য আর সব সময় অনলাইনে থাকতে হবে না, এই ভাবনাই তাঁকে ফোন থেকে দূরে সরে যেতে উৎসাহিত করে।

ডিজিটালের বদলে অ্যানালগ সমাধান
বাজারে ফোন ব্যবহার কমানোর জন্য নানা অ্যাপ থাকলেও তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর সমস্যার সমাধান ডিজিটালের বাইরে। তাই বাড়ির পুরোনো জিনিসপত্রের ড্রয়ার থেকে খুঁজে বের করলেন একটি পুরোনো শিকল। সেটি ফোনের কভারের সঙ্গে জুড়ে দিলেন। দৃশ্যটা নাটকীয়, এমনকি হাস্যকরও মনে হতে পারে। কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—রূপক শিকল ভাঙতে বাস্তব শিকল।
প্রত্যাহারের প্রথম ধাক্কা
শুরুতে সবচেয়ে কঠিন ছিল কল্পিত নোটিফিকেশনের শব্দ। বাসে, ট্রেনে অন্যদের আলোকিত পর্দা দেখে মনে হতো, কত বার্তা তিনি মিস করছেন। প্রথম দিন অফিসে পৌঁছেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিচ্ছিন্নতাই স্বস্তি হয়ে উঠতে শুরু করে।

নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা
স্মার্টফোন মানে সময় জানা, আবহাওয়া জানা, নিজের অবস্থান জানা। ফোন থেকে দূরে থাকা মানে এই নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু এতে নতুন অভিজ্ঞতাও আসে। অপরিচিত মানুষ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, বন্ধুদের দেখা করার পরিকল্পনাও আরও নিশ্চিত হয়। শেষ মুহূর্তে বাতিলের সুযোগ আর থাকে না।
স্ক্রিন টাইম কমার বাস্তব ফল
ফোন হাতে না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকতে হলে আলাদা করে চেষ্টা করতে হতো। এই বাড়তি ঝামেলাই আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে স্ক্রিনে কাটানো সময় সীমিত হয়ে আসে। দিনের শেষে নির্দিষ্ট সময়ে সব নোটিফিকেশন একসঙ্গে দেখার মধ্যেও আলাদা আনন্দ খুঁজে পান তিনি।
ফোনের বাইরে সময়ই আসল প্রাপ্তি
এই পরীক্ষার সাফল্য শুধু স্ক্রিন টাইম কমায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ফোন হাতের কাছে না থাকায় মাথার ভেতরের অযথা দুশ্চিন্তা কমে যায়। নিজের ভাবনার সঙ্গে বসার সুযোগ পান তিনি। শরীরের দিকে মনোযোগ দেন, চারপাশের পরিবেশ নতুন করে লক্ষ্য করেন। তাঁর উপলব্ধি, প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বদলাতে কখনও কখনও অ্যানালগ পথে হাঁটাই সবচেয়ে কার্যকর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















