০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
সংস্কারের নাম করে স্থবিরতা: ব্রিটিশ রাজনীতিতে রিফর্ম দলের ঝুঁকিপূর্ণ উত্থান বিশ্বের সর্বোচ্চ মেট্রো স্টেশন দুবাইয়ে, ইমার স্টেশনের ভেতরের নকশায় জলধারার ছন্দ ন্যূনতম মজুরি বাড়ায় আমিরাতিদের বেতন ও আগ্রহ, বেসরকারি খাতে হাইব্রিড চাকরির চাহিদা তুঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা কমাতে আরব কূটনীতি, আপাতত সামরিক সংঘাত এড়াল ওয়াশিংটন ইরানে রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণ দমননীতির নিচে কাঁপছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র শিকলে বাঁধা স্মার্টফোন অতিরিক্ত স্ক্রিন আসক্তি ভাঙতে এক তরুণীর চরম সিদ্ধান্ত শিস আর ওয়াকিটকি হাতে স্কুল পাহারা, আইসিই আতঙ্কে মিনিয়াপোলিসের অভিভাবকদের নজিরবিহীন প্রতিরোধ নির্বাচনের আগে সহিংসতার ছায়া, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অভিবাসন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশসহ পঁচাত্তর দেশের জন্য স্থায়ী ধাক্কা সিরিয়ার উত্তরে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রা, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত

সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্য সুরক্ষায় কড়া ব্যবস্থা নিল সিঙ্গাপুর

জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথিতে সংরক্ষিত সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার করছে সিঙ্গাপুর সরকার। যৌনবাহিত রোগ, নির্দিষ্ট মানসিক রোগ, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত তথ্যকে সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে এসব তথ্যের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক রোগীই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে কিছু চিকিৎসা তথ্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে কিংবা সামাজিক কলঙ্কের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যৌনবাহিত রোগ, বিভ্রমজনিত মানসিক সমস্যা ও সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগের তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বেশি। এ কারণে এসব রোগের নির্ণয় ও পরীক্ষার ফল জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথিতে সংরক্ষিত হলেও তা দেখার সুযোগ পাবেন কেবল সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, যারা সরাসরি ওই রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত।

HIPAA Compliant Messaging in the Cloud

সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী তান কিয়াত হাউ জানান, এই সংবেদনশীল তথ্য দেখার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যক্তিদেরও আবার পরিচয় যাচাই করতে হবে, যাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভুলবশত এসব তথ্য দেখতে না পারেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংস্থা নিয়মিতভাবে এসব প্রবেশাধিকার পর্যবেক্ষণ করবে এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য তথ্য আইন পাস হওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরু থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, পরীক্ষাগার ও ফার্মেসিকে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্য জাতীয় নথিতে যুক্ত করতে হবে। এতে রোগীর অ্যালার্জি, টিকাদান, রোগ নির্ণয়, ওষুধ, পরীক্ষার ফল ও ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

এই আইন নিয়ে সংসদ সদস্যদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিছু স্বাস্থ্য তথ্য কর্মসংস্থান বা বিমার ক্ষেত্রে ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন রোগীরা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাকরি বা বিমার কাজে এই নথির তথ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এমন অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

Compliance Question of the Week | Healthcare Compliance Pros

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নয়, চিকিৎসকদের নৈতিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস বজায় রাখা জরুরি।

জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথির লক্ষ্য হলো বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা আরও সমন্বিত করা। একাধিক চিকিৎসকের কাছে গেলে যাতে একই পরীক্ষা বারবার করতে না হয়, ভুল ওষুধ দেওয়া না হয় কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকি না থাকে, সে জন্য এই নথি বড় ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা চাইবেন তারা চাইলে প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পারবেন। তবে জরুরি অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার প্রয়োজনে চিকিৎসকরা সীমাবদ্ধতা ভেঙে তথ্য দেখতে পারবেন এবং সেই প্রতিটি ঘটনাই পরে যাচাই করা হবে।

Extra safeguards for more sensitive medical info like mental health  conditions: MOH | The Straits Times

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অ্যালার্জি, চলমান ওষুধ ও টিকাদানের তথ্য জানা থাকলে চিকিৎসার ভুল অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জাতীয় নথি থাকলে এসব ঝুঁকি কমানো সহজ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের নাম করে স্থবিরতা: ব্রিটিশ রাজনীতিতে রিফর্ম দলের ঝুঁকিপূর্ণ উত্থান

সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্য সুরক্ষায় কড়া ব্যবস্থা নিল সিঙ্গাপুর

০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথিতে সংরক্ষিত সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার করছে সিঙ্গাপুর সরকার। যৌনবাহিত রোগ, নির্দিষ্ট মানসিক রোগ, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত তথ্যকে সবচেয়ে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে এসব তথ্যের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক রোগীই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে কিছু চিকিৎসা তথ্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে কিংবা সামাজিক কলঙ্কের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যৌনবাহিত রোগ, বিভ্রমজনিত মানসিক সমস্যা ও সিজোফ্রেনিয়ার মতো রোগের তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বেশি। এ কারণে এসব রোগের নির্ণয় ও পরীক্ষার ফল জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথিতে সংরক্ষিত হলেও তা দেখার সুযোগ পাবেন কেবল সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা, যারা সরাসরি ওই রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত।

HIPAA Compliant Messaging in the Cloud

সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিমন্ত্রী তান কিয়াত হাউ জানান, এই সংবেদনশীল তথ্য দেখার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপ রাখা হয়েছে। অনুমোদিত ব্যক্তিদেরও আবার পরিচয় যাচাই করতে হবে, যাতে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ভুলবশত এসব তথ্য দেখতে না পারেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি সংস্থা নিয়মিতভাবে এসব প্রবেশাধিকার পর্যবেক্ষণ করবে এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য তথ্য আইন পাস হওয়ার পর ২০২৭ সালের শুরু থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, পরীক্ষাগার ও ফার্মেসিকে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্য জাতীয় নথিতে যুক্ত করতে হবে। এতে রোগীর অ্যালার্জি, টিকাদান, রোগ নির্ণয়, ওষুধ, পরীক্ষার ফল ও ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

এই আইন নিয়ে সংসদ সদস্যদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিছু স্বাস্থ্য তথ্য কর্মসংস্থান বা বিমার ক্ষেত্রে ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন রোগীরা। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, চাকরি বা বিমার কাজে এই নথির তথ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এমন অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

Compliance Question of the Week | Healthcare Compliance Pros

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নয়, চিকিৎসকদের নৈতিকতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের আস্থা অর্জনের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস বজায় রাখা জরুরি।

জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য নথির লক্ষ্য হলো বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা আরও সমন্বিত করা। একাধিক চিকিৎসকের কাছে গেলে যাতে একই পরীক্ষা বারবার করতে না হয়, ভুল ওষুধ দেওয়া না হয় কিংবা অ্যালার্জির ঝুঁকি না থাকে, সে জন্য এই নথি বড় ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা চাইবেন তারা চাইলে প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পারবেন। তবে জরুরি অবস্থায় রোগীর জীবন রক্ষার প্রয়োজনে চিকিৎসকরা সীমাবদ্ধতা ভেঙে তথ্য দেখতে পারবেন এবং সেই প্রতিটি ঘটনাই পরে যাচাই করা হবে।

Extra safeguards for more sensitive medical info like mental health  conditions: MOH | The Straits Times

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, অ্যালার্জি, চলমান ওষুধ ও টিকাদানের তথ্য জানা থাকলে চিকিৎসার ভুল অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জাতীয় নথি থাকলে এসব ঝুঁকি কমানো সহজ হবে।