সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর এলাকায় চালু হলো অত্যাধুনিক একটি গবেষণাগার, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা। কোভিড মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই নতুন স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দ্রুত পরীক্ষা, বড় পরিসরে নমুনা বিশ্লেষণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা একসঙ্গে নিশ্চিত করা যায়।
নতুন এই গবেষণাগারটি চালু করা হয়েছে চাঙ্গি বিমানবন্দরের কার্গো কেন্দ্র এলাকায়। এখানে একসঙ্গে আগের তুলনায় দ্বিগুণ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং পরীক্ষার সময় ছয় ঘণ্টা থেকে কমে চার ঘণ্টায় নেমে আসবে। স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী কে শানমুগাম গবেষণাগার উদ্বোধনের সময় জানান, কোভিড মহামারির সময় যে সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেগুলো মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোভিড অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন পরিকল্পনা
দুই হাজার বিশ সালের জানুয়ারিতে সিঙ্গাপুরে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হওয়ার পর শুরুতে পরীক্ষাগার সংকট দেখা দেয়। তখন পাসির পাঞ্জাং এলাকার একটি গবেষণাগারকে দ্রুত রূপান্তর করে দিনরাত কোভিড পরীক্ষা চালাতে হয়েছিল। এতে কার্গো পরীক্ষার সক্ষমতা ব্যাহত হয়। সেই অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের জন্য আলাদা ও আধুনিক অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দেয়।
তিন ভাগে সাজানো বিশেষ গবেষণাগার
চাঙ্গিতে গড়ে ওঠা নতুন গবেষণাগারটির নাম রাখা হয়েছে সিবিআরএনই অ্যাট চাঙ্গি। এটি তিনটি আলাদা অংশে বিভক্ত। একটি অংশে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয়, পারমাণবিক ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত পরীক্ষা চালানো হবে। বাকি দুটি অংশ ব্যবহৃত হবে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা ও গবেষণার কাজে। মহামারির সময় একটি অংশকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখে অন্য অংশে রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো যাবে, যাতে কোনো ধরনের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি না থাকে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুত পরীক্ষা
এই গবেষণাগারে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একসঙ্গে ছিয়ানব্বইটি নমুনা নিবন্ধন করা যাবে। আগে বিজ্ঞানীদের প্রতিটি নমুনা হাতে ধরে আলাদা করে নথিভুক্ত করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় এই কাজ অনেক দ্রুত হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।

কার্গো পরীক্ষা ও গবেষণায় বড় অগ্রগতি
নতুন গবেষণাগার চালু হওয়ায় কার্গো নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আগের তুলনায় দশ গুণ বাড়বে। শান্তিকালে এর একটি অংশ গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। এখানে জৈব অণুস্তরের গবেষণা চালানো হবে, যেখানে জীবের সব জিন ও প্রোটিনের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য জৈব হুমকি শনাক্তের উপায় বের করা হবে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো বহনযোগ্য ভর বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরি। এই যন্ত্রটি আকারে ছোট হলেও মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম। যেখানে বড় যন্ত্রে এই কাজ করতে আধা ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এই যন্ত্র দিয়ে নিয়ন্ত্রিত মাদকজাত দ্রব্যসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।

ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি
গবেষণাগার উদ্বোধনের সময় স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নতুন ধরনের হুমকি আসতেই পারে এবং তখন প্রস্তুতির জন্য সময় পাওয়া যাবে না। তাই আগেভাগেই আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষাগার তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, এই গবেষণাগার শুধু বর্তমান প্রয়োজন নয়, অজানা ভবিষ্যৎ সংকট দ্রুত বুঝে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















