সিঙ্গাপুরের সেরাঙ্গুন নদীর পূর্ব তীরে আরও সবুজায়নের পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা করছে সরকারি সংস্থাগুলো। জাতীয় উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যালভিন ট্যান সংসদে জানিয়েছেন, লোরং হালুস বাস ডিপোর আশপাশের এলাকায় ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পাশাপাশি সবুজ ও বিনোদনমূলক জায়গা কীভাবে রাখা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সেরাঙ্গুন নদীর বন ও বাস ডিপো বিতর্ক
নদীর পূর্ব তীরে থাকা বনভূমিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে সেরাঙ্গুন নদীর বন নামে ডাকছেন। এই এলাকায় বাস ডিপো নির্মাণ নিয়ে পরিবেশগত সমীক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তাঁরা। সংসদে বিষয়টি তুলে ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য ডেনিস ট্যান বলেন, সিঙ্গাপুরের সবুজ এলাকা পুনর্গঠন ও সংরক্ষণ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সময় এসেছে।

শিল্প উন্নয়নের পুরনো পরিকল্পনার কথা সরকারের
প্রতিমন্ত্রী অ্যালভিন ট্যান সংসদে স্পষ্ট করেন, সেরাঙ্গুন নদীর পূর্ব তীর এলাকা উনিশশো আটানব্বই সালের মাস্টার প্ল্যান থেকেই শিল্প ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই জমি ধাপে ধাপে উন্নয়ন করে আশপাশের হুগাং, সেংকাং এবং ভবিষ্যতের ডেফু ও পায়া লেবার এয়ার বেস এলাকার বাসিন্দাদের কাছাকাছি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।
পরিবেশ সমীক্ষা কেন হয়নি
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লোরং হালুস বাস ডিপো এলাকাটি সংবেদনশীল প্রকৃতি অঞ্চল নয়। তাই এখানে পরিবেশগত সমীক্ষার প্রয়োজন পড়েনি। সরকারের মতে, এই প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব সীমিত এবং এখানকার আবাসস্থলের পরিবেশগত মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। ফলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সবুজ সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধীদের আশঙ্কা
ডেনিস ট্যানের মতে, পায়া লেবার এয়ার বেস এলাকায় বিশাল নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠলে আশপাশের সীমিত সবুজ এলাকা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, কৃত্রিম পার্কের ওপর নির্ভর না করে সেরাঙ্গুন নদীর বন সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যৎ শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
ভূমি পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বাস ডিপো পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বাস পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হবে। ত্রিশের দশক থেকে পায়া লেবার এয়ার বেস স্থানান্তর শুরু হলে আগেভাগেই নতুন পরিবহন অবকাঠামো প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবেশগত প্রভাব কমাতে কাজের এলাকা ঘিরে রাখা, বন্যপ্রাণী পরীক্ষা এবং শব্দ কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্মাণ শেষে এখানে অন্তত পাঁচশ পঞ্চাশটি বাস রাখার সক্ষমতা থাকবে।
উন্নয়ন বনাম প্রকৃতি সংরক্ষণের টানাপোড়েন
এই পুরো বিতর্ক আবারও সামনে এনেছে সিঙ্গাপুরে উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের প্রশ্ন। সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের যুক্তিতে অনড় থাকলেও, নাগরিক সমাজ ও বিরোধী দলের দাবি, প্রাকৃতিক সবুজের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নতুন করে বিবেচনা করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















