০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

চীন–কানাডা সম্পর্কের নতুন মোড়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন চেতনা

দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ও নতুন সমঝোতা
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর চীন ও কানাডা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং ভেঙে পড়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই সমঝোতাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে বলেছেন ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’। উভয় দেশই এটিকে পারস্পরিক লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নেওয়া দুই দেশের জন্য।

আট বছরে প্রথম সফর, কূটনীতিতে নতুন গতি
এটি ছিল আট বছর পর কোনো কানাডীয় নেতার প্রথম চীন সফর এবং গত অক্টোবরে এশিয়া–প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের পর দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিয়েছে।

কৌশলগত অংশীদারত্বে চীন-কানাডা, শুল্ক কমানোর ঘোষণা | Page 2

কৃষিপণ্য ও ইভিতে শুল্ক ছাড়
চুক্তির আওতায় চীন কানাডীয় ক্যানোলা বা পরিবর্তিত রেপসিড তেলের ওপর শুল্ক ৮০ শতাংশের বেশি থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য কৃষিপণ্যেও শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগ থাকবে। অপরদিকে, কানাডা চীনে তৈরি সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার বৈদ্যুতিক যান আমদানির অনুমতি দেবে, যেখানে শুল্কহার হবে প্রায় ৬ শতাংশ—আগের ১০০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

মেং ওয়ানঝৌ ইস্যুর ছায়া কাটিয়ে বাণিজ্য স্বস্তি
এই ছাড়গুলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দুটি বড় বাণিজ্য বিরোধের অবসান ঘটিয়েছে। ২০১৮ সালে ভ্যাঙ্কুভারে হুয়াওয়ের শীর্ষ নির্বাহী মেং ওয়ানঝৌ গ্রেপ্তারের পর থেকেই সম্পর্ক টানাপোড়েনে ছিল। নতুন চুক্তি কানাডীয় কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি এনেছে এবং চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

কানাডার কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক আরোপ

পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি বেইজিংয়ের কূটনৈতিক বার্তা
কানাডার সঙ্গে এই চুক্তি বেইজিংয়ের বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান একতরফা নীতির মুখে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। এর মধ্যে ফ্রান্স থেকে নতুন বিমান অর্ডার এবং আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের জন্য চীনের মাংস বাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমাতে কার্নির কৌশল
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ওয়াশিংটনের হুমকির প্রেক্ষাপটে মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর রপ্তানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কানাডীয় উৎপাদকরা আশা করছেন, কৃষিপণ্য ও সামুদ্রিক খাদ্যের পাশাপাশি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদেও চীনের আগ্রহ বাড়বে।

শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা কানাডার

স্বাধীন পথে কানাডার নতুন নেতৃত্ব
সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান কার্নিকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে কিছুটা স্বাধীন পথে কানাডার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে চাইছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

চীন–কানাডা সম্পর্কের নতুন মোড়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন চেতনা

০১:১৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ও নতুন সমঝোতা
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর চীন ও কানাডা বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং ভেঙে পড়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই সমঝোতাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে বলেছেন ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’। উভয় দেশই এটিকে পারস্পরিক লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নেওয়া দুই দেশের জন্য।

আট বছরে প্রথম সফর, কূটনীতিতে নতুন গতি
এটি ছিল আট বছর পর কোনো কানাডীয় নেতার প্রথম চীন সফর এবং গত অক্টোবরে এশিয়া–প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের পর দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিয়েছে।

কৌশলগত অংশীদারত্বে চীন-কানাডা, শুল্ক কমানোর ঘোষণা | Page 2

কৃষিপণ্য ও ইভিতে শুল্ক ছাড়
চুক্তির আওতায় চীন কানাডীয় ক্যানোলা বা পরিবর্তিত রেপসিড তেলের ওপর শুল্ক ৮০ শতাংশের বেশি থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য কৃষিপণ্যেও শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগ থাকবে। অপরদিকে, কানাডা চীনে তৈরি সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার বৈদ্যুতিক যান আমদানির অনুমতি দেবে, যেখানে শুল্কহার হবে প্রায় ৬ শতাংশ—আগের ১০০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

মেং ওয়ানঝৌ ইস্যুর ছায়া কাটিয়ে বাণিজ্য স্বস্তি
এই ছাড়গুলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের দুটি বড় বাণিজ্য বিরোধের অবসান ঘটিয়েছে। ২০১৮ সালে ভ্যাঙ্কুভারে হুয়াওয়ের শীর্ষ নির্বাহী মেং ওয়ানঝৌ গ্রেপ্তারের পর থেকেই সম্পর্ক টানাপোড়েনে ছিল। নতুন চুক্তি কানাডীয় কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি এনেছে এবং চীনা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

কানাডার কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক আরোপ

পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি বেইজিংয়ের কূটনৈতিক বার্তা
কানাডার সঙ্গে এই চুক্তি বেইজিংয়ের বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান একতরফা নীতির মুখে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। এর মধ্যে ফ্রান্স থেকে নতুন বিমান অর্ডার এবং আয়ারল্যান্ড ও স্পেনের জন্য চীনের মাংস বাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমাতে কার্নির কৌশল
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় ওয়াশিংটনের হুমকির প্রেক্ষাপটে মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর রপ্তানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কানাডীয় উৎপাদকরা আশা করছেন, কৃষিপণ্য ও সামুদ্রিক খাদ্যের পাশাপাশি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদেও চীনের আগ্রহ বাড়বে।

শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা কানাডার

স্বাধীন পথে কানাডার নতুন নেতৃত্ব
সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান কার্নিকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে দেখা হয়, যিনি ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে কিছুটা স্বাধীন পথে কানাডার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে চাইছেন।