ইসলামাবাদসহ পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের একাধিক এলাকায় সোমবার মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখোয়া ও গিলগিট-বালতিস্তানে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও মাত্রা
পাকিস্তানের জাতীয় ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ভূকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বারিশাল শহরের উত্তর-উত্তরপশ্চিমে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে, গভীরতা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।

কোথায় কোথায় কম্পন অনুভূত
ইসলামাবাদের পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাত উপত্যকা ও গিলগিট-বালতিস্তানের হুনজা এলাকায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুনজায় অন্তত একশটির বেশি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি
ভূমিকম্পের পর পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কারাকোরাম মহাসড়কও একাধিক স্থানে ভূমিধসের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সাম্প্রতিক ভূকম্পনের প্রেক্ষাপট
এই ভূমিকম্পের কয়েক সপ্তাহ আগেই, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর করাচিসহ কয়েকটি এলাকায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সে সময় পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ওই কম্পনের কেন্দ্র ছিল বেলুচিস্তানের সোনমিয়ানি এলাকায় এবং করাচি থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৭ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ পাকিস্তান
ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। অতীতেও দেশটি একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৫ সালে আজাদ কাশ্মীর অঞ্চলে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ এবং গৃহহীন হন প্রায় ৩৫ লাখ। এছাড়া ২০১৫ সালে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়ে প্রায় চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে বেলুচিস্তানের হারনাই জেলায় ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন, যেখানে ভূমিধস উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করে দিয়েছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















