নয়াদিল্লিতে মাত্র তিন ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফর হলেও ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠক। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও মহাকাশ—সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা দ্রুত চূড়ান্ত করার স্পষ্ট বার্তা এসেছে এই বৈঠক থেকে।
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সম্পর্কের গুরুত্ব
নয়াদিল্লিতে পৌঁছেই এমবিজেডকে আলিঙ্গনে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুজন একই গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান, যা ভারতের কাছে আমিরাতের গুরুত্বই তুলে ধরে। প্রায় পঁয়তাল্লিশ লাখ ভারতীয় প্রবাসীর আবাসভূমি এই দেশটি ভারতের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারীও।

প্রতিরক্ষায় কৌশলগত কাঠামোর দিকে অগ্রগতি
দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তির দিকে এগোনোর ইচ্ছাপত্রে সই করেছে। এর আওতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, বিশেষ বাহিনীর সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট করেছেন, এটি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নয় এবং কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে ভারতের জড়ানোর প্রশ্ন নেই।
জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা
জ্বালানি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দশ বছরের জন্য তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ চুক্তির পথে দুই দেশ। ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর পাঁচ লাখ টন গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও আমিরাতের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পারমাণবিক ও নতুন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা
ভারতে নতুন পারমাণবিক আইনের আলোকে বড় চুল্লি ও ক্ষুদ্র মডুলার চুল্লি উন্নয়নে যৌথভাবে কাজের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সুপারকম্পিউটিং, তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাণিজ্যে দুইশ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য
দুই দেশের বাণিজ্য ইতিমধ্যে একশ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন লক্ষ্য ঠিক হয়েছে ২০৩২ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ করে দুইশ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার। ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ও পারস্পরিক আস্থাই এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যের ভিত্তি বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহাকাশ, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল উদ্যোগ
মহাকাশ শিল্প উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহযোগিতা ও উৎক্ষেপণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গুজরাটের ধোলেরা বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চলে বড় পরিসরের অবকাঠামো গড়ে তুলতে আমিরাতের বিনিয়োগ আসার পথ খুলছে। দুই দেশ ডিজিটাল দূতাবাস স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিচ্ছে, যাতে পারস্পরিক সার্বভৌম তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
নেতারা মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রতি যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ করিডর উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও তাদের ঐকমত্য হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















