শান্তির নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে যুক্ত করে আবারও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, একই সঙ্গে ন্যাটো জোটের ভেতরেও দেখা দিয়েছে গভীর ফাটল।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি ও শান্তির প্রশ্ন
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, শান্তির নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর শুধু শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য নন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, একাধিক যুদ্ধ থামানোর পরও নোবেল না পাওয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বাগ্রে দেখবেন। নরওয়ে সরকার ওই বার্তা প্রকাশ করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে নীরবতা, শুল্কের হুঁশিয়ারি
এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে শুল্ক আরোপ করা হবে। তার এই অবস্থান ইউরোপীয় বাজার ও শিল্পখাতে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ন্যাটো ও ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন
ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ন্যাটো জোটের ভেতরে বড় সংকট তৈরি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আগেই জোটে টানাপোড়েন চলছিল। এর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু সেই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, আবারও বড় ধরনের বাণিজ্য অস্থিরতা ফিরে আসতে পারে।
![]()
নোবেল পুরস্কার বিতর্ক ও ট্রাম্পের অভিযোগ
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৫ সালের শান্তির নোবেল পুরস্কার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। নিজের বার্তায় তিনি দাবি করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রাশিয়া বা চীনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না এবং প্রশ্ন তোলেন, তাদের মালিকানার অধিকারই বা কোথায়। ট্রাম্পের ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না নিলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।
শুল্ক আরোপের সময়সীমা ও ইউরোপের জবাব
আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ডসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশ এবং ব্রিটেন ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সেখানকার জনগণের। চাপের কাছে মাথা নত করা হবে না বলেও তিনি জানান। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন মন্তব্য করেছেন, মানুষকে কেনাবেচার বিষয় নয়, এটি আধুনিক সময়ের বাস্তবতা নয়।

ডাভোসে সম্ভাব্য বৈঠক ও ইউরোপের সতর্কতা
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নরওয়ে ও জার্মানির নেতারা উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানালেও স্পষ্ট করে বলেছেন, অযৌক্তিক শুল্ক চাপানো হলে ইউরোপও জবাব দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















