যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। এই অবস্থান ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে এবং ন্যাটো জোটের ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এখন শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়, বরং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য বড় এক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তায় বাড়ছে চাপ
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনার পরও তিনি একই সুরে কথা বলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি প্রকাশ করে গ্রিনল্যান্ডে নিজের উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য তুলে ধরেন। এসব ঘটনায় ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি ও উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।
![]()
ডেনমার্কের কঠোর অবস্থান
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপসের প্রশ্নই নেই বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ডেনমার্ক কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রিনল্যান্ড ছাড়বে না। ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দাভোসে ইউরোপের পক্ষ থেকে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক শক্তির আইনে নয়, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লায়েন জানান, বর্তমান সংকট ইউরোপকে আরও আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগোতে বাধ্য করছে।

বাণিজ্য উত্তেজনা ও বাজারে প্রভাব
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে। শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে, সোনার দাম নতুন উচ্চতায় উঠেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে।

রাশিয়ার মন্তব্যে নতুন মাত্রা
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয় এবং এটি উপনিবেশিক দখলের ফল। একই সঙ্গে তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে রাশিয়ার কোনো দাবি নেই। তার এই মন্তব্য ইস্যুটিকে আরও জটিল কূটনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের আশ্বাস
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি সমাধান শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসবে এবং সংকট বড় আকার নেবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















