০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য? ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার পর্যটন খাতে নতুন সংকট, ভ্রমণ ব্যয় বাড়ায় কমছে পর্যটক মার্সিয়া লুকাস আর নেই: ‘স্টার ওয়ার্স’-এর সাফল্যের নেপথ্যের কিংবদন্তি সম্পাদক মারা গেলেন ৮০ বছর বয়সে ২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ধীরগতির ইরান আলোচনা, প্রয়োজনে ‘ভিন্ন পথে’ সমাধানের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা ফোনের ঝুঁকি কতটা? মানিকগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে ভাশুরের হামলা, নিহত ভাবি ও দেড় বছরের শিশু দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার উড়োজাহাজ ভাড়ার সংকট: জ্বালানি নয়, আসল সমস্যা বাজারের কাঠামো

অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্পণে নতুন আদেশ জারি করল অর্থ বিভাগ

রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ নতুন একটি সমন্বিত আদেশ জারি করেছে। মঙ্গলবার জারি করা এই আদেশে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন কার্যালয়ের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনরায় অর্পণের বিষয়ে হালনাগাদ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো কাঠামো বাতিল, নতুন ব্যবস্থার সূচনা
নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জারি করা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের আগের কাঠামো এবং পরবর্তী সব সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। তার জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন, সরকারি ক্রয় সংস্কার এবং সাম্প্রতিক আইনগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালের বাজেটসংক্রান্ত কার্যাদেশের মাধ্যমে। পরে ১৯৯৪ সালে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং ২০০০ ও ২০০৪ সালে সংশোধিত আদেশ জারি করা হয়। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ আদেশটি জারি হয়েছিল ২০১৫ সালে, যেখানে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন উভয় খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়ে আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগ | STAR NEWS

আইন ও বিধিমালার পরিবর্তনে হালনাগাদের প্রয়োজন
সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর সংশোধন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ প্রণীত হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের কাঠামো হালনাগাদ ও সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়ে। নতুন আদেশে সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব অথবা ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা নিশ্চিত করবেন যে ব্যয় কেবল অনুমোদিত খাতে হচ্ছে, সব আর্থিক বিধি ও নিয়ম মানা হচ্ছে, বাজেট সীমা অতিক্রম করা হচ্ছে না এবং পূর্বানুমতি ছাড়া সম্পূরক বরাদ্দের আশায় কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না।

আদেশে বাজেটের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার প্রস্তুত করা হিসাবের সঙ্গে মাসিক ব্যয়ের নিয়মিত মিল এবং নিরীক্ষা আপত্তির সময়মতো নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুনরায় ক্ষমতা অর্পণের সুযোগ
কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সীমার মধ্যে তাদের সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন কার্যালয়ে আর্থিক ক্ষমতা পুনরায় অর্পণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সব কার্যালয়ে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে একটি অভিন্ন মডেল অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যয়ের ২৬ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে

বিশেষ ক্ষমতা ও নতুন সীমা
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, যেসব কর্মকর্তা পৃথক সরকারি আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা ভোগ করছেন, তাঁরা আগের মতোই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে নতুন আদেশে কোনো খাতে যদি বেশি আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে নতুন আদেশে উল্লেখিত কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই কার্যকর হবে।

অনুমোদন ও হিসাব প্রক্রিয়া
অর্পিত ক্ষমতার আওতায় জারি করা সব আর্থিক অনুমোদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে অনুমোদনটি নতুন আদেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদিত বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে।

যেসব বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখাকে অনুমোদনের কাগজে অনুমোদনসূচক স্বাক্ষর দিতে হবে, তারপর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

অবিলম্বে কার্যকর
নতুন এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ

অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্পণে নতুন আদেশ জারি করল অর্থ বিভাগ

১১:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ নতুন একটি সমন্বিত আদেশ জারি করেছে। মঙ্গলবার জারি করা এই আদেশে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন কার্যালয়ের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ও পুনরায় অর্পণের বিষয়ে হালনাগাদ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো কাঠামো বাতিল, নতুন ব্যবস্থার সূচনা
নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট জারি করা আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের আগের কাঠামো এবং পরবর্তী সব সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। তার জায়গায় প্রশাসনিক পরিবর্তন, সরকারি ক্রয় সংস্কার এবং সাম্প্রতিক আইনগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি নতুন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ ও ১৯৮৫ সালের বাজেটসংক্রান্ত কার্যাদেশের মাধ্যমে। পরে ১৯৯৪ সালে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং ২০০০ ও ২০০৪ সালে সংশোধিত আদেশ জারি করা হয়। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ আদেশটি জারি হয়েছিল ২০১৫ সালে, যেখানে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন উভয় খাতের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়ে আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগ | STAR NEWS

আইন ও বিধিমালার পরিবর্তনে হালনাগাদের প্রয়োজন
সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর সংশোধন এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ প্রণীত হওয়ায় আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের কাঠামো হালনাগাদ ও সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়ে। নতুন আদেশে সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব
সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব অথবা ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা নিশ্চিত করবেন যে ব্যয় কেবল অনুমোদিত খাতে হচ্ছে, সব আর্থিক বিধি ও নিয়ম মানা হচ্ছে, বাজেট সীমা অতিক্রম করা হচ্ছে না এবং পূর্বানুমতি ছাড়া সম্পূরক বরাদ্দের আশায় কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না।

আদেশে বাজেটের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার প্রস্তুত করা হিসাবের সঙ্গে মাসিক ব্যয়ের নিয়মিত মিল এবং নিরীক্ষা আপত্তির সময়মতো নিষ্পত্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুনরায় ক্ষমতা অর্পণের সুযোগ
কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত সীমার মধ্যে তাদের সংযুক্ত দপ্তর ও অধস্তন কার্যালয়ে আর্থিক ক্ষমতা পুনরায় অর্পণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সব কার্যালয়ে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে একটি অভিন্ন মডেল অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যয়ের ২৬ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অর্থ বিভাগের অনুমোদন লাগবে

বিশেষ ক্ষমতা ও নতুন সীমা
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, যেসব কর্মকর্তা পৃথক সরকারি আদেশের মাধ্যমে বিশেষ আর্থিক ক্ষমতা ভোগ করছেন, তাঁরা আগের মতোই সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে নতুন আদেশে কোনো খাতে যদি বেশি আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে নতুন আদেশে উল্লেখিত কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাই কার্যকর হবে।

অনুমোদন ও হিসাব প্রক্রিয়া
অর্পিত ক্ষমতার আওতায় জারি করা সব আর্থিক অনুমোদনের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে যে অনুমোদনটি নতুন আদেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং অনুমোদিত বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে।

যেসব বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখাকে অনুমোদনের কাগজে অনুমোদনসূচক স্বাক্ষর দিতে হবে, তারপর পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

অবিলম্বে কার্যকর
নতুন এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।