মিনেসোটার সেন্ট পলে রোববার গভীর আতঙ্কের মধ্যে পড়েন এক মার্কিন নাগরিক। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা হঠাৎ তার বাড়ির দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্র তাক করে হাতকড়া পরান এবং প্রায় নগ্ন অবস্থায় তাকে তুষারের মধ্যে বাইরে টেনে নিয়ে যান। ঘটনার একদিন পর সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভয়, লজ্জা আর অসহায়ত্বে তিনি প্রার্থনা করছিলেন।
ভাঙা দরজা, অস্ত্রের মুখে আতঙ্ক
ছাপ্পান্ন বছর বয়সী চংলি থাও, যিনি স্কট নামে পরিচিত, জানান তিনি তখন ঘরে কারাওকে গাইছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে দরজা ভাঙার আওয়াজ পেয়ে পরিবার নিয়ে একটি ঘরে লুকিয়ে পড়েন। সেখানেই ফেডারেল কর্মকর্তারা তাকে খুঁজে পান। অস্ত্র তাক করে তাকে হাতকড়া পরানো হয় এবং ঘর থেকে বের করে আনা হয়।
শীতের মধ্যে অপমানজনক অভিজ্ঞতা
থাও জানান, তখন তার গায়ে ছিল শুধু অন্তর্বাস আর পায়ে স্যান্ডেল। অতিরিক্ত পোশাক পরার সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। চার বছর বয়সী নাতির কম্বল গায়ে জড়িয়ে তীব্র শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেদিন সেন্ট পলে তাপমাত্রা ছিল হিমাঙ্কের অনেক নিচে।
নাগরিকত্ব সত্ত্বেও আটক
থাও লাওসে জন্মগ্রহণ করেন এবং চার বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি উনিশ শত একানব্বই সালে নাগরিকত্ব পান। তবু ঘটনার সময় তার মনে ভয় ঢুকে পড়ে, যদি তাকে আবার লাওসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে তার কোনো আত্মীয় নেই।
পরিবারের ক্ষোভ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অপ্রয়োজনীয়, অপমানজনক ও গভীরভাবে মানসিক আঘাতমূলক বলা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তাকে কম্বল জড়ানো অবস্থায় দেখা যায়, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, ওই ঠিকানায় দুই দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীকে খোঁজা হচ্ছিল। সংস্থার দাবি, ওই বাড়িতে থাকা এক ব্যক্তি পরিচয় যাচাইয়ে সহযোগিতা না করায় তাকে আটক করা হয়। তবে স্থানীয় মেয়র জানান, যাদের খোঁজা হচ্ছিল তারা আর ওই বাড়িতে থাকেন না।
আইনি প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক চাপ
এই ঘটনার আগেই এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের কিছু আগ্রাসী কৌশলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তার মতে, এসব পদ্ধতি সাধারণ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার চর্চায় ভয় দেখায়। প্রশাসন সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
ফিরে আসার পর প্রশ্ন
কয়েক ঘণ্টা পর থাওকে কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা ছাড়া বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তারা নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। এখন তার প্রশ্ন, যদি এটাই এই দেশের চেহারা হয়, তাহলে তারা এখানে কেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















