ইরানে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি পড়ছে দেশটির ব্যবসা খাতে। তথ্যপ্রবাহ ও বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা কার্যত অচল অবস্থায় পৌঁছেছে। সরকারি মহল থেকে ইন্টারনেট স্বাভাবিক হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না জানানোয় উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।

ইন্টারনেট বন্ধের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা শুরু হয় গত আট জানুয়ারি। দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক দিনে সীমিত আকারে কিছু দেশীয় ওয়েবসাইট চালু হলেও বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহ এখনও কার্যত বন্ধ। অনুসন্ধান সেবাও আংশিকভাবে চালু হলেও বেশির ভাগ ফলাফল দেখা যাচ্ছে না।
ব্যবসায় ধস, আয়ের বড় পতন
ইন্টারনেট বন্ধের সরাসরি আঘাত এসে পড়েছে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়। তেহরানের এক পোষা প্রাণীর দোকান মালিক জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর তার ব্যবসা প্রায় নব্বই শতাংশ কমে গেছে। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিক্রিই ছিল আয়ের প্রধান উৎস। এখন সেই পথ বন্ধ। সরকার বিকল্প হিসেবে কিছু দেশীয় প্ল্যাটফর্মের কথা বললেও সেখানে ক্রেতাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
অর্থনৈতিক সংকটে বাড়তি চাপ
ইন্টারনেট বন্ধের আগেই ইরান গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির মুদ্রার মান দ্রুত পড়ে গিয়ে এক ডলারের বিপরীতে মূল্য দাঁড়ায় প্রায় চৌদ্দ লাখ রিয়ালে। এক দশক আগে যেখানে এক ডলারের মূল্য ছিল মাত্র বত্রিশ হাজার রিয়াল, সেখানে এই পতন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যয়বহুল করে তুলেছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে হু হু করে। এর মধ্যেই ডিসেম্বর মাসে জ্বালানির দামে পরিবর্তন আনা হলে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হয় এবং বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ
ইন্টারনেট কবে পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা না আসায় ব্যবসায়ী মহলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অনেক উদ্যোক্তা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে তারা হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব কেবল যোগাযোগ বা তথ্যপ্রবাহে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















