জানুয়ারির তৃতীয় সোমবার এলেই সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে ফিরে আসে একটি শব্দ—ব্লু মানডে। বলা হয়, বছরের সবচেয়ে বিষণ্ন দিন এটি। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণার পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বরং বিষয়টি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসে।
ব্লু মানডের জন্মকথা
চিকিৎসকদের মতে, ব্লু মানডে শব্দটির জন্ম হয়েছিল দুই হাজারের দশকের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডনে। একটি অবৈজ্ঞানিক সূত্রের মাধ্যমে এটি তৈরি হয় এবং পরে প্রচারণার অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতি বছর জানুয়ারিতে এটি আবার আলোচনায় আসে এবং অনেকেই একে বছরের সবচেয়ে হতাশাজনক দিন হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি কোনো চিকিৎসাগত নির্ণয় নয়, বরং একটি প্রচারমূলক ধারণা।
জানুয়ারি কেন কঠিন মনে হয়

দুবাই ও আবুধাবিতে কর্মরত চিকিৎসকেরা বলছেন, নির্দিষ্ট একটি দিন নয়, বরং জানুয়ারি মাসজুড়েই অনেক মানুষের মন খারাপ লাগতে পারে। ছুটির আমেজ শেষ হয়ে যাওয়ার চাপ, নতুন বছরের সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে না পারার হতাশা, আর্থিক দুশ্চিন্তা এবং শীতের কারণে কম আলো—সব মিলিয়েই এই সময়টা কঠিন লাগে। সূর্যের আলো কমে গেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি ব্যাহত হয়, যা মন ভালো রাখার রাসায়নিকের ওপর প্রভাব ফেলে।
ঋতুভিত্তিক মনখারাপের বাস্তবতা
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ব্লু মানডে একটি মিথ হলেও ঋতুভিত্তিক বিষণ্নতা একটি বাস্তব সমস্যা। দিনের আলো কমে যাওয়ায় অনেকের মন খারাপ, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই মানসিক চাপের মধ্যে আছেন বা মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সময়ে সমস্যা বাড়ার ঝুঁকি বেশি।

লক্ষণগুলো উপেক্ষা নয়
চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যাওয়া, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, একা থাকতে চাওয়া, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া, শক্তি না পাওয়া, খাওয়ার অভ্যাস বা ঘুমের সময় বদলে যাওয়া—এসব লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শরীরের ক্লান্তির সঙ্গে যদি আচরণগত বা আবেগগত পরিবর্তন যুক্ত হয়, তবে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
মন ভালো রাখার কার্যকর উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম মন ভালো রাখার অন্যতম কার্যকর উপায়। প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটাহাঁটিও মানসিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় নিয়মিত ঘুম ও জাগার সময়, খাবারের রুটিন এবং পর্যাপ্ত পানি পান মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক। চিকিৎসকেরা বলছেন, ছোট ছোট অভ্যাসই জানুয়ারির চাপ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















