মূল বক্তব্য
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিয়ে তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে রাবেয়া ইসলাম শম্পা লেখেন, রাত পোহাতে যেমন দেরি হয়, তেমনি ওসমান হাদির বিচার পেতেও কেন এত দেরি হচ্ছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশে যারা বিচারের জন্য লড়াই করে, তাদের জন্য এটি আজীবনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ
পোস্টে তিনি অতীতের কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার উদাহরণ টেনে আনেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির নাম। কতবার বিচার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
রাবেয়া ইসলাম শম্পা স্পষ্ট করে বলেন, যত দেরিই হোক, তারা বিচার আদায় করেই ছাড়বেন। কত মাস, কত দিন বা কত ঘণ্টা লাগবে—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি বার্তা
তিনি লেখেন, যদি শহীদ হাদির হত্যার বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই রাষ্ট্রে আর কেউ কারও জন্য কাঁদবে না, রাস্তায় নামবে না বা লড়াই করবে না। হাদির পরিবারকে কিছু সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বিচার থামিয়ে দেওয়া যাবে—এমন ধারণাকে তিনি চরম ভুল বলে আখ্যা দেন। তার ভাষায়, হাদি শুধু একটি পরিবারের নয়, তিনি সারা বাংলাদেশের মানুষ।

ঐক্যের ডাক
পোস্টে তিনি আরও বলেন, বিচার কাজে যত দেরি করা হবে, মানুষ তত বেশি ঐক্যবদ্ধ হবে। দেশের মানুষ জানে কোথায় সমস্যা এবং কেন বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।
শেষ বক্তব্য
সবশেষে রাবেয়া ইসলাম শম্পা জানান, সরকার কী দিচ্ছে বা দিচ্ছে না—সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অবগত নন এবং এতে তার আগ্রহও নেই। তার একমাত্র চাওয়া হলো, যে কোনো মূল্যে তার স্বামী ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং তার রেখে যাওয়া আমানত হিসেবে ছেলে ফিরনাসের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। এর বাইরে তার আর কোনো দাবি নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















