লন্ডনের ঐতিহাসিক কেন্দ্রে চীনের প্রস্তাবিত ‘মেগা দূতাবাস’ নির্মাণে অবশেষে অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তকে লন্ডন ও বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে প্রায় বিশ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই জায়গায় গড়ে উঠতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় দূতাবাস কমপ্লেক্স। পশ্চিমা কোনো রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এত বড় কূটনৈতিক স্থাপনা বিরল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে অনুমোদন মিললেও আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন
আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিডের স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিকল্পনা অনুমোদন কার্যকর হলেও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল একাধিক দফা বিলম্ব। জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ, মানবাধিকারকর্মী ও চীনবিরোধী গোষ্ঠীর প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে বিষয়টি ছিল স্পর্শকাতর। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, গোটা প্রক্রিয়াজুড়েই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্ত ছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক ছাদের নিচে দূতাবাস, বাড়ছে নজরদারি সুবিধা
ব্রিটিশ সরকারের দাবি, লন্ডনে চীনের বর্তমানে থাকা সাতটি আলাদা কূটনৈতিক স্থাপনা একত্র করে একটি জায়গায় আনতে সম্মত হয়েছে বেইজিং। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং নজরদারির সুবিধাও বাড়বে। এই যুক্তিকেই অনুমোদনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
লেবার সরকারের কূটনৈতিক বার্তা
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী লেবার সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুরু থেকেই এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিলম্ব নিয়ে চীনের অসন্তোষও সরাসরি লন্ডনের নজরে আসে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, চলতি মাসেই স্টারমারের চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সফরটি হলে দুই হাজার আঠারোর পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর হবে।
সুযোগ ও ঝুঁকির দ্বন্দ্ব
গত মাসে স্টারমার স্বীকার করেছিলেন, চীন যুক্তরাজ্যের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করলেও একই সঙ্গে প্রকৃত জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিও রয়েছে। সেই স্বীকারোক্তির প্রেক্ষাপটেই ‘মেগা দূতাবাস’ অনুমোদনকে অনেকেই ভারসাম্যের কূটনীতি হিসেবে দেখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















