উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল।
বন্যায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা
তিউনিসিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিজ বাড়িতেই ডুবে মারা গেছেন এক বৃদ্ধা। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে মনাস্তির অঞ্চলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সত্তর বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, কিছু অঞ্চলে জানুয়ারি মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তা উনিশশো পঞ্চাশ সালের পর আর দেখা যায়নি। মনাস্তির, নাবেউল ও বৃহত্তর তিউনিস এলাকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পর্যটন গ্রাম সিদি বু সাইদে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে দুইশ ছয় মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থবিরতা
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একাধিক অঞ্চলে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোতের মধ্যে রাস্তায় আটকে আছে গাড়ি, হাঁটুপানি ভেঙে চলাচল করছেন বাসিন্দারা।

খরা আর জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বন্দ্ব
টানা বর্ষণের এই চিত্র সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তিউনিসিয়া টানা সাত বছরের খরার সঙ্গে লড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের বাঁধগুলোতে পানির মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গ্রীষ্মকালে কৃষি ও পানীয় জলের সংকট মোকাবিলায় বহু এলাকায় পানি সরবরাহে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছিল। হঠাৎ এই অতিবৃষ্টি সেই সংকটের সঙ্গে নতুন ঝুঁকি যোগ করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















