০৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচন জিততে চান, নাকি রিপাবলিকান পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই তাঁর আসল লক্ষ্য? ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার পর্যটন খাতে নতুন সংকট, ভ্রমণ ব্যয় বাড়ায় কমছে পর্যটক মার্সিয়া লুকাস আর নেই: ‘স্টার ওয়ার্স’-এর সাফল্যের নেপথ্যের কিংবদন্তি সম্পাদক মারা গেলেন ৮০ বছর বয়সে ২০৩৫ সালের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে চাপের মুখে যুক্তরাজ্য, উদ্বিগ্ন জাপান ও ইতালি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ধীরগতির ইরান আলোচনা, প্রয়োজনে ‘ভিন্ন পথে’ সমাধানের ইঙ্গিত দীর্ঘ সময় চার্জে রাখা ফোনের ঝুঁকি কতটা? মানিকগঞ্জে পারিবারিক বিরোধে ভাশুরের হামলা, নিহত ভাবি ও দেড় বছরের শিশু দিল্লিতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শোনা যাচ্ছে আর্তচিৎকার উড়োজাহাজ ভাড়ার সংকট: জ্বালানি নয়, আসল সমস্যা বাজারের কাঠামো

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে সরে দাঁড়ালেন টবি ক্যাডম্যান

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ, নবায়ন হয়নি
টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ২৬ নভেম্বর। ওই চুক্তি আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে প্রায় দুই মাস আগেই তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান।

দায়িত্ব না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্যাডম্যানকে দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই আর দায়িত্ব চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম থেকে টবি ক্যাডম্যানের না থাকা নিয়ে আলোচনা,  পাল্টাপাল্টি বক্তব্য - BBC News বাংলা

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দাবি
ডেভিড বার্গম্যানের শেয়ার করা এক বিবৃতিতে টবি ক্যাডম্যান বলেন, চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা তিনি এই মুহূর্তে সমীচীন মনে করছেন না। উল্লেখযোগ্যভাবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগের দিনই তার অনুপস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসে।

নিয়োগ ঘিরে আগের বিতর্ক
লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা গার্নিকা থার্টি সেভেন গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যানের নিয়োগ শুরু থেকেই নানা আলোচনার জন্ম দেয়। অতীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আবেদন করা একটি তুর্কি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষেও তিনি কাজ করেন। তবে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার কথিত গণহত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আলোচিত যত রায়

মামলার রায় ও পরবর্তী প্রস্তুতি
চানখাঁরপুলের ছয় হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন মঙ্গলবার নির্ধারিত থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করেছে। টবি ক্যাডম্যান না থাকলেও প্রসিকিউশন টিম পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সংবাদ সম্মেলন আজ

বিচার কার্যক্রম অব্যাহত
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, ক্যাডম্যানের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি ও বিচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মামলায় দেশি ও বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কফি বিপ্লব: বিশেষায়িত কফির উত্থানে বদলে যাচ্ছে চাষিদের ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে সরে দাঁড়ালেন টবি ক্যাডম্যান

০১:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করছেন না ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান। তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত ১৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। পরে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ, নবায়ন হয়নি
টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে সরকারের এক বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ২৬ নভেম্বর। ওই চুক্তি আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে প্রায় দুই মাস আগেই তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান।

দায়িত্ব না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্যাডম্যানকে দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজেই আর দায়িত্ব চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম থেকে টবি ক্যাডম্যানের না থাকা নিয়ে আলোচনা,  পাল্টাপাল্টি বক্তব্য - BBC News বাংলা

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দাবি
ডেভিড বার্গম্যানের শেয়ার করা এক বিবৃতিতে টবি ক্যাডম্যান বলেন, চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা তিনি এই মুহূর্তে সমীচীন মনে করছেন না। উল্লেখযোগ্যভাবে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত দ্বিতীয় মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখের ঠিক আগের দিনই তার অনুপস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসে।

নিয়োগ ঘিরে আগের বিতর্ক
লন্ডনভিত্তিক আইন সংস্থা গার্নিকা থার্টি সেভেন গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যানের নিয়োগ শুরু থেকেই নানা আলোচনার জন্ম দেয়। অতীতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আবেদন করা একটি তুর্কি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষেও তিনি কাজ করেন। তবে গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার কথিত গণহত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আলোচিত যত রায়

মামলার রায় ও পরবর্তী প্রস্তুতি
চানখাঁরপুলের ছয় হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন মঙ্গলবার নির্ধারিত থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে আগামী ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করেছে। টবি ক্যাডম্যান না থাকলেও প্রসিকিউশন টিম পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সংবাদ সম্মেলন আজ

বিচার কার্যক্রম অব্যাহত
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, ক্যাডম্যানের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বিচারিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে জুলাই ও আগস্টের গণঅভ্যুত্থান–সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি ও বিচার চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মামলায় দেশি ও বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।