পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুর অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। সংস্থাটির ভাষায়, এটি জাতিসংঘের কোনো দপ্তরের ওপর নজিরবিহীন হামলা এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভোরের অভিযানে কার্যালয় দখল
বুধবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমের ওই কার্যালয়ে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের বের করে দেয়। সকাল সাতটার পরপরই সেখানে বুলডোজার ঢুকিয়ে ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র জানান, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং কার্যালয়ের ভেতরে থাকা স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘের দপ্তর ও কর্মীদের জন্য যে কূটনৈতিক সুরক্ষা ও বিশেষ অধিকার রয়েছে, এই অভিযান তা সরাসরি লঙ্ঘন করেছে। ইউএনআরডব্লিউএর দাবি, আজ যদি তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়, তাহলে আগামীতে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনও একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ভূমি দখলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ
পশ্চিম তীরে ইউএনআরডব্লিউএর পরিচালক রোলান্ড ফ্রিডরিখ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, বহু বছর ধরেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলে আসছেন যে এই জমি বসতি নির্মাণের জন্য নেওয়া হবে, বর্তমান ভাঙচুর সেই পরিকল্পনারই অংশ।

বিতর্কিত বক্তব্য ও উগ্রপন্থী উপস্থিতি
ঘটনাস্থলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হন। তিনি একে জেরুজালেম শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যাদের তিনি সন্ত্রাসবাদের সমর্থক বলে আখ্যা দেন, তাদের উপস্থিতি এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, সংস্থাটির কিছু কর্মী অতীতে ইসরায়েলের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক তদন্তে স্বীকার করা হয়েছে যে সংস্থার ভেতরে কিছু নিরপেক্ষতা–সংক্রান্ত সমস্যা থাকলেও এসব গুরুতর অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















