১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সিলেটে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট, ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা, বাজারে আতঙ্ক কমাতে নতুন নির্দেশনা তেল না পেয়ে পাম্প থেকে ফিরছেন চালকেরা, বাড়ছে ভোগান্তি ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা, জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে যাত্রী দুর্ভোগ জ্বালানি তেলে রেশনিং চলছেই, কমেনি জনভোগান্তি এশিয়ায় এলএনজির স্পট মূল্য দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের জ্বালানি সংকটের শঙ্কা তেহরানে তীব্র মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের রাত: আতঙ্কে কেঁপে উঠল রাজধানী এক বছরে চতুর্থ থেকে ১১তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্র, আমেরিকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বাড়তে পারে খাদ্যদাম, তীব্র হতে পারে জীবনযাত্রার ব্যয়

কুমিল্লায় রাতের আঁধারে শতবর্ষী গাছ কাটা, নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

কুমিল্লা নগরীতে গভীর রাতে শতবর্ষী সাতটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টমছমব্রিজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কোথায় কাটা হয়েছে গাছ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টমছমব্রিজ-মেডিক্যাল কলেজ সড়কের পাশে আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের দুই পাশে থাকা দুটি বিশাল রেইনট্রি গাছসহ মোট সাতটি পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা ইপিজেডের সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী অন্তত ত্রিশটি বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কেটে নেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুরে শতবর্ষী বটগাছ কাটা নিয়ে যা জানা গেল। - নব দিগন্ত ২৪

সরেজমিনে যা দেখা গেছে
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই পড়ে আছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। হাউজিং এস্টেট গোলমার্কেট সড়কের মুখে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো একটি বটগাছের গোড়া উপড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ঢুলিপাড়া ও কুমিল্লা কেটিসিসি এলাকার সামনেও আরও কয়েকটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে।

রাতের আঁধারে গোপনে কাজ
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় বিশ দিন আগে গভীর রাতে গাছগুলো কেটে টুকরো করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে ছায়া দিয়ে আসছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

শিরকের অভিযোগে কাটা হলো শতবর্ষী বটগাছ

দায়িত্ব নিয়ে দপ্তরগুলোর ভিন্নমত
উক্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বর্তমানে উন্নয়নকাজ করছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তবে গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা গেছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কীভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনই বিস্তারিত জানাতে পারবে।

অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন-উদ্দিন চিশতী দাবি করেন, সিটি করপোরেশন বা তাদের কোনো ঠিকাদার গাছ কাটেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই হাজার বিশ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নিলামের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

রাতের অন্ধকারে শতবর্ষী গর্জন গাছটি কাটলো কারা? - দৈনিক আজাদী

বন বিভাগের ব্যাখ্যা
আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নথিপত্র যাচাই করে জানা গেছে, দুই হাজার বিশ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সাতটি পুরোনো গাছ নিলামের মাধ্যমে কাটার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে দুটি ছিল মেহগনি এবং পাঁচটি রেইনট্রি। বটগাছটি বুনো হওয়ায় সেটি নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই সাতটির মধ্যে একটি গাছ কয়েক বছর আগেই কাটা হয়েছিল, আর এখন ছয়টি কাটা হয়েছে। তাঁর মতে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিলামে পাওয়া ঠিকাদার বা তাদের লোকজনই এসব গাছ কেটেছে।

ইতিহাসবিদদের ক্ষোভ
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, শতবর্ষী ও দুই শতাধিক বছরের পুরোনো গাছ এভাবে কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, দুইশ বছরের পুরোনো বটগাছটি না কাটলেও পারত। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আরও বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

কুমিল্লায় রাতের আঁধারে শতবর্ষী গাছ কাটা, নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

১২:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা নগরীতে গভীর রাতে শতবর্ষী সাতটি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। টমছমব্রিজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার অজুহাতে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কোথায় কাটা হয়েছে গাছ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টমছমব্রিজ-মেডিক্যাল কলেজ সড়কের পাশে আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের দুই পাশে থাকা দুটি বিশাল রেইনট্রি গাছসহ মোট সাতটি পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে কুমিল্লা ইপিজেডের সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী অন্তত ত্রিশটি বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কেটে নেওয়া হয়েছে।

মাদারীপুরে শতবর্ষী বটগাছ কাটা নিয়ে যা জানা গেল। - নব দিগন্ত ২৪

সরেজমিনে যা দেখা গেছে
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই পড়ে আছে বড় বড় গাছের গুঁড়ি। হাউজিং এস্টেট গোলমার্কেট সড়কের মুখে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো একটি বটগাছের গোড়া উপড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ঢুলিপাড়া ও কুমিল্লা কেটিসিসি এলাকার সামনেও আরও কয়েকটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ কাটা হয়েছে।

রাতের আঁধারে গোপনে কাজ
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় বিশ দিন আগে গভীর রাতে গাছগুলো কেটে টুকরো করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব গাছ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাজুড়ে ছায়া দিয়ে আসছিল এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

শিরকের অভিযোগে কাটা হলো শতবর্ষী বটগাছ

দায়িত্ব নিয়ে দপ্তরগুলোর ভিন্নমত
উক্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বর্তমানে উন্নয়নকাজ করছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। তবে গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা গেছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কীভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনই বিস্তারিত জানাতে পারবে।

অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন-উদ্দিন চিশতী দাবি করেন, সিটি করপোরেশন বা তাদের কোনো ঠিকাদার গাছ কাটেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই হাজার বিশ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর নিলামের মাধ্যমে এসব গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

রাতের অন্ধকারে শতবর্ষী গর্জন গাছটি কাটলো কারা? - দৈনিক আজাদী

বন বিভাগের ব্যাখ্যা
আদর্শ সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নথিপত্র যাচাই করে জানা গেছে, দুই হাজার বিশ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সাতটি পুরোনো গাছ নিলামের মাধ্যমে কাটার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর মধ্যে দুটি ছিল মেহগনি এবং পাঁচটি রেইনট্রি। বটগাছটি বুনো হওয়ায় সেটি নিলামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই সাতটির মধ্যে একটি গাছ কয়েক বছর আগেই কাটা হয়েছিল, আর এখন ছয়টি কাটা হয়েছে। তাঁর মতে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিলামে পাওয়া ঠিকাদার বা তাদের লোকজনই এসব গাছ কেটেছে।

ইতিহাসবিদদের ক্ষোভ
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, শতবর্ষী ও দুই শতাধিক বছরের পুরোনো গাছ এভাবে কেটে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, দুইশ বছরের পুরোনো বটগাছটি না কাটলেও পারত। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আরও বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।