চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সালিমপুর এলাকাকে ঘিরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের তৎপরতা আর মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠা ওই এলাকার সন্ত্রাসী আস্তানা খুব শিগগিরই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব–৭ সদর দপ্তরে নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মহাপরিচালক এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জঙ্গল সালিমপুরে যে সন্ত্রাসী ঘাঁটি গড়ে উঠেছে, তা চূর্ণ করে দেওয়া হবে। এটি র্যাবের দৃঢ় অঙ্গীকার।

সশস্ত্র হামলায় র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু
সোমবার জঙ্গল সালিমপুরের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে গেলে সশস্ত্র অপরাধীদের গুলিতে নিহত হন র্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন। একই ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। সেনাবাহিনীর নায়েব সুবেদার পদমর্যাদার এই সদস্য র্যাবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি শহীদ হয়েছেন বলে জানান মহাপরিচালক।

ন্যায়বিচার ও তদন্তের আশ্বাস
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে র্যাব প্রধান বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলার তদারকি চালিয়ে যাবে র্যাব। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নেবে র্যাব
নিহত মোতালেব হোসেনের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে র্যাব শহীদের পরিবারের পাশে থাকবে এবং তারা যেন কোনোভাবে অসহায় হয়ে না পড়ে, সে দায়িত্ব বাহিনী নেবে।
জঙ্গল সালিমপুরে কঠোর অভিযান আসছে
জঙ্গল সালিমপুরকে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন র্যাব মহাপরিচালক। তিনি জানান, যারা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছে এবং অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।
গত বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে একাধিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি অভিযানের সঙ্গেই ঝুঁকি থাকে। সোমবারের ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী। পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সে সময় র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত ছিলেন।

ভিডিও ফুটেজ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয় এবং পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ভিডিওতে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুরের দৃশ্যও রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, হামলায় জড়িত একাধিক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়েই র্যাব তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান আরও জোরদার হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















